বিজ্ঞাপন

মৃত্যুর আগে নিরাপদ ঘর: কিরণ হাজংয়ের আকুতি পূরণে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার

‘মৃত্যুর আগে অন্তত একটি নিরাপদ ঘরে থাকতে চাই’- নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার ৮৩ বছর বয়সী অসহায় বৃদ্ধ কিরণ হাজংয়ের মর্মস্পর্শী আকুতি অবশেষে বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। পলিথিনের ছাউনি দেওয়া জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করা এক দম্পতির দুর্দশা ঘোচাতে এগিয়ে এসেছেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই দম্পতির জন্য নতুন ঘর নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।

জানা যায়, দীর্ঘ বছর ধরে ভাঙা টিন আর পলিথিনের জোড়াতালি দেওয়া ঘরে স্ত্রী পিকলা হাজংকে নিয়ে অত্যন্ত কষ্টে দিন পার করছিলেন কিরণ হাজং। সামান্য বৃষ্টিতেই চাল বেয়ে পানি পড়ত ঘরের ভেতর। চরম দারিদ্র্য আর নিত্যদিনের অভাব-অনটনে তাদের মুখের হাসি যেন চিরতরে হারিয়ে গিয়েছিল। পরিস্থিতি এতটাই করুণ ছিল যে, দুবেলা খাবার জোটানোও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ত। অভাবের তাড়নায় স্বামী-স্ত্রী মিলে একটি মাত্র ডিম ভাগ করে খাওয়ার মতো হৃদয়বিদারক ঘটনাও তাদের জীবনে ঘটেছে।

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিরণ হাজং ও তার স্ত্রী পিকলা হাজংয়ের চরম অসহায়ত্বের কথা উঠে আসে। বিষয়টি জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নজরে এলে তিনি দ্রুত তাদের পাশে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

তার নির্দেশনায় মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এই দম্পতির জন্য নতুন ঘর নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। ঘর নির্মাণকাজের সময় দুর্গাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক, সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন, মাওলানা জামাল উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

নতুন ঘর নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় কিরণ ও পিকলা হাজংয়ের চোখেমুখে দীর্ঘদিনের জমে থাকা কষ্ট মুছে গিয়ে স্বস্তির ছায়া নেমে এসেছে। জীবনের শেষ বেলায় এসে নিরাপদ ঘরের স্বপ্ন পূরণের পথে থাকায় আবেগাপ্লুত কিরণ হাজং বলেন, ‍“ব্যারিস্টার কায়সার কামাল স্যার আমাদের জন্য নতুন ঘর তৈরি করে দিচ্ছেন। আমাদের আর দুঃখ-কষ্ট থাকবে না। এতদিন খুব কষ্টে জীবন পার করেছি। নতুন ঘরে নিরাপদে বাকি জীবনটা কাটাতে পারব। আমরা তাঁর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।”

এদিকে, শুধু নতুন ঘরই নয়, এই হাজং দম্পতির পাশে এসে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় প্রশাসনও। তাদের অসহায়ত্বের কথা জানতে পেরে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় দ্রুত তাদের জন্য বয়স্ক ভাতা প্রাপ্তির ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছে। এছাড়াও, দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অভাবী দম্পতির জন্য জরুরি খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সব মিলিয়ে জীবনের অপরাহ্নে এসে এই দম্পতির জীবনে স্বস্তির সুবাতাস বইতে শুরু করেছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : মা গিয়েছিলেন হাঁসের খাবার আনতে, এদিকে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল সন্তানের

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন