বিজ্ঞাপন

ত্রিশালে অভিযান পরিচালনা করার সময় ইজারাদারের কর্মচারীকে পেটালেন ইউএনও

ময়মনসিংহের ত্রিশালে ব্রহ্মপুত্র নদের অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে বালু ইজারাদারের কর্মচারী জুবায়ের হোসেনের অশালীন আচরণে কর্মচারীকে পিটিয়েছেন ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী। বুধবার দুপুরে ঘটে যাওয়া মারধরের ওই সিসিটিভির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

জানাযায়, পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার সকাল থেকেই ব্রহ্মপুত্র নদের অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করতে বের হন ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মাহবুবুর রহমান। বালিপাড়া ইউনিয়নের ধলা এলাকার সিমেক, বালিপাড়া বালুর মোড় এলাকার মরাখলা, কাঁঠাল ইউনিয়নের কালীর বাজার ও কানিহারী ইউনিয়নের ঝিলকি নামকস্থানে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করেন।

এরপর কানিহারী ইউনিয়নের কুলু বাড়ি মোড়ে ট্রাক ভর্তি বালুর গাড়ির বহর দেখে একটি বালু ঘাটে যায় ভ্রাম্যমান আদালত। ত্রিশালের অংশেই ছিল বালুর স্ত’প। বালু বহনকারী ট্রাকগুলো ত্রিশালের সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করলেও ওই ঘাটটি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সিমানায় পড়েছে বলে দাবি করে সেখানে থাকা কর্মচারীরা।

ভাইরাল হওয়া ওই সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, ওই বালুমহালের অফিসকক্ষে প্রবেশ করেন ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি)সহ র‌্যাবের ফোর্স ও আনসার সদস্যরা। এরপর ভ্রাম্যমান আদালত ইজারার বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাইলে ইজারাদারের কর্মচারী জোবায়ের হোসেন জানান সেটি এখানে নেই। আপনি কে আপনার পরিচয় দেন। আরাফাত সিদ্দিকী তার পরিচয় দিয়ে বলেন আমি ত্রিশালের ইউএনও মোবাইল কোর্টে আসছি। কথাবার্তা বুঝে শুনে বলেন। এসময় জোবায়ের হোসেন বলেন এবিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত আছেন। এখানে তো অনেকেই আসে। তখন ইউএনও একটু রেগে গিয়ে চড়থাপ্পর দিতে দিতে বলেন তুই আমাকে চিনিস না। এরপর বেত দিয়ে ৩/৪ টা বাড়ি দেন।

বৈধ ইজারাদারের দাবি করা সৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের মালিক শামসুজ্জামান মাসুদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ঘটনার সময় আমি সেখানে ছিলাম না। বিস্তারিত আমিও জানি না। ভাই কি আর বলবো সব তো সিসিটিভির ফুটেজে দেখেছেন।

ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী জানান, সেখানে থাকা কর্মচারীরা দলীয় প্রভাবে অনেক বেয়াদবী করেছে। সদর আসনের এমপি ওয়াহাব আকন্দ ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক রুকুনুজ্জামান সরকারের নাম ব্যবহার করে ওই বালু ঘাট থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করে যাচ্ছিলো। ভাইরাল হওয়া সিসিটিভির ফুটেজ থেকে অনেক কিছু কাটছাট করা হয়েছে। ওই ঘটনার জেরে ময়মনসিংহ শহর থেকে মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে বিকেলের দিকে ত্রিশাল উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে নেতাকর্মীরা আমাকে উদ্দেশ্য করে উশৃংখল আচরণ করে । ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী বলেন বালু মহলের কর্মচারীকে বার বার বলেছি বালু ঘাটের বৈধতা আছে কি ? সে আমার সাথে ক্ষমতার দাপটে ও সৌজন্যমূলক আচরণ করেন ।পরে তার ব্যবহারে ক্ষিপ্ত হয়ে নিজের রাগ সামলাতে না পেরে রাগের মাথায় তাকে চড় থাপড়া মারি । বালু মহলের কর্মচারী জুবায়ের হোসেনকে র‌্যাবের হাতে তুলে দিলে পড়ে তাকে ইউএনও ছেড়ে দেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ফটিকছড়িতে আধুনিক ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন