বিজ্ঞাপন

সৌদির সঙ্গে বিমান চলাচলে নতুন মাইলফলক: সপ্তাহে যাত্রীবাহী ফ্লাইট বেড়ে ৮৮

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে আকাশপথের বিমান চলাচলে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। দুই দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন সমঝোতা স্মারকের আওতায় বাংলাদেশ-সৌদি রুটে সাপ্তাহিক অনুমোদিত যাত্রীবাহী ফ্লাইটের সংখ্যা ৪৯টি থেকে বাড়িয়ে ৮৮টিতে উন্নীত করা হয়েছে।

একই সঙ্গে সপ্তাহে ২১টি ডেডিকেটেড কার্গো ফ্লাইট, পঞ্চম স্বাধীনতা ট্রাফিক অধিকার, কোড-শেয়ারিং এবং উড়োজাহাজ লিজ বা ওয়েট লিজ সুবিধাসহ বেশ কিছু যুগান্তকারী ধারা যুক্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বেবিচকের সদর দপ্তরে গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।

নতুন এই চুক্তির ফলে দুই দেশের এয়ারলাইনসগুলো প্রতি সপ্তাহে অতিরিক্ত ৩৯টি ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ পাবে। বেবিচক জানায়, এতে হজ ও ওমরাহ মৌসুমে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ এবং টিকিট সংকট নিরসন হবে।

পাশাপাশি সৌদি আরবে বসবাসরত প্রায় ৪০ লাখ বাংলাদেশী প্রবাসীর দেশে যাতায়াত সহজ ও সাশ্রয়ী হবে। এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ায় বিমানভাড়াও সহনীয় পর্যায়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঢাকার ওপর চাপ কমাতে এবং আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দরকেও এই সমঝোতার আওতায় আনা হয়েছে।

এখন থেকে সৌদি আরবের এয়ারলাইনসগুলো সরাসরি চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে রিয়াদ, দাম্মাম, মদিনা ও জেদ্দায় ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে। এতে ঢাকার বাইরে থাকা প্রবাসীদের যাতায়াত দুর্ভোগ কমবে এবং আঞ্চলিক বিমানবন্দর দুটির কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে।

সমঝোতার অন্যতম বড় অর্জন কার্গো পরিবহনের পরিধি বৃদ্ধি। প্রতি সপ্তাহে ২১টি কার্গো ফ্লাইট চলাচলের সুযোগ তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, তাজা শাকসবজি ও ফলমূল দ্রুত সৌদি বাজারে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

নতুন চুক্তিতে ‘ফিফথ ফ্রিডম ট্রাফিক রাইটস’ও যুক্ত হয়েছে। এর আওতায় সৌদি আরবের এয়ারলাইনসগুলো বাংলাদেশ হয়ে চীন ও হংকং থেকে কার্গো পরিবহন করতে পারবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের এয়ারলাইনসগুলো সৌদি আরব হয়ে স্পেন ও জার্মানিসহ নির্ধারিত বিভিন্ন গন্তব্যে কার্গো সেবা চালাতে পারবে।

বেবিচক মনে করছে, এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি কার্যকর আঞ্চলিক কার্গো হাব হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

চুক্তিতে কোড-শেয়ারিং, কো-টার্মিনালাইজেশন ও ওয়েট লিজ সুবিধাও রাখা হয়েছে। এর ফলে প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে দুই দেশের এয়ারলাইনসগুলো নিজ দেশ, অপর পক্ষ কিংবা তৃতীয় কোনো দেশের এভিয়েশন সংস্থার সঙ্গে বাণিজ্যিক যৌথ পরিচালনা চুক্তি করতে পারবে।

ব্যস্ত মৌসুমে উড়োজাহাজ ভাড়ায় এনে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ থাকায় এয়ারলাইনসগুলোর সক্ষমতা ও নমনীয়তা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, “বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় এই চুক্তি দুই দেশের এভিয়েশন খাতকে শক্তিশালী রূপ দেবে। এটি শুধু ফ্লাইট বাড়ানোর চুক্তি নয়; প্রবাসী যোগাযোগ, হজ ব্যবস্থাপনা, কার্গো পরিবহন এবং সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যে এটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।”

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : যেভাবে হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন