বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে সিলেট নগরীর রায়নগরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার ও তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগমের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বাদ আসর নগরীর ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ময়দানে তাঁদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন হজরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফিজ মাওলানা আসজাদ আহমদ।
জানাজার আগে নিহত দম্পতির ছেলে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী আরিফ ইফতেখার ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী মুসল্লিদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।
বক্তব্যে আরিফ ইফতেখার তাঁর বাবা-মায়ের কারও সঙ্গে কোনো ভুল হয়ে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করেন। কোনো পাওনা থাকলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করারও অনুরোধ জানান তিনি।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শান্তির নগরী হিসেবে পরিচিত সিলেটে অতীতে এ ধরনের নৃশংস ঘটনা খুব কমই ঘটেছে।
তিনি বলেন, ‘ঘটনার খবর পাওয়ার পর আমি সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি। অল্প সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করায় সিলেট মহানগর পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই।’
সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে। ঘটনার নেপথ্যে কেউ থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। আমরা চাই, দ্রুতবিচার আদালতের মাধ্যমে মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তি করে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।’
সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিমের পরিচালনায় জানাজায় মেক্সিকোয় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা ফখরুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক নগরবাসী অংশ নেন।
জানাজা শেষে নিহত আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগমের মরদেহ মানিকপীর (রহ.) কবরস্থানে দাফন করা হয়।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

