নিজেদের ইতিহাসের সেরা জয় থেকে মাত্র ৬ উইকেট দূরে বাংলাদেশ। দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর সুখস্মৃতি আছে বাংলাদেশের। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের হারানো? ক্রিকেটের সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের একটি। সিরিজ শুরুর আগে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে আনকোরা দলের বিপক্ষে ৫৪ রানে অলআউট হয়ে লজ্জার মুখে পড়া টাইগাররা ডারউইনে যা করছে তা রীতিমত ব্যাখাতীত। টানা তিনদিন নিরঙ্কুশ আধিপত্য দেখানো বাংলাদেশ এই টেস্টে জয় না পেলেই সেটা বিস্ময় জাগানিয়া হবে।
অস্ট্রেলিয়া ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিয়ে দিন শেষ করেছে। ২২৮ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে তারা প্রথম ইনিংসের মতো ভরাডুবি দেখেনি। বাংলাদেশ প্রায় দুই সেশনে চার উইকেট নিয়ে কিছুটা চাপ তৈরি করেছিল। কিন্তু শেষ সেশনে দারুণ প্রতিরোধ গড়েছে স্বাগতিকরা। ৬৭ রানে পিছিয়ে থেকে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করে তারা লড়াইয়ের মানসিকতা ফিরে পাচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করে। তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরি ও নাজমুল হোসেন শান্তর হাফ সেঞ্চুরির পর মেহেদী হাসান মিরাজের ফিফটিতে তারা শক্ত অবস্থানে থেকে ইনিংস শেষ করে। শনিবার তৃতীয় দিনের খেলায় বাংলাদেশ লাঞ্চের পরপর অলআউট হয়। এদিন চার উইকেট হাতে নিয়ে নেমেছিল সফরকারীরা। চারটি উইকেটই নেন জশ হ্যাজলউড। এই অস্ট্রেলিয়ান পেসার ৬ উইকেট নেন।
অস্ট্রেলিয়া চাপ নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে হাসান মাহমুদের গতির কাছে ৩৭ রানে ২ উইকেট হারায়। জেক ওয়েদারাল্ডন বোল্ড হয়ে ডাক মারেন। আরেক ওপেনার ট্র্যাভিস হেডও বোল্ড হন। এরপর মার্নাস লাবুশেন ও স্টিভ স্মিথ বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন।
চা বিরতির পর লাবুশেনকে দারুণ বোলিংয়ে বোল্ড করেন তাইজুল ইসলাম। ৩৬ রানের জুটি ভাঙে তার ৩১ রানের ইনিংস শেষ হলে। স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিন বাংলাদেশের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছিলেন। শেষ পর্যন্ত বিকেলের সেশনের মাঝামাঝি সময়ে এই জুটিও ভেঙে দেন মিরাজ।
৮৮ বলে ৪৪ রান করে স্মিথ বাংলাদেশি অফস্পিনারকে ফিরতি ক্যাচ তুলে দেন। তারপর বাকি সময় সতর্ক থেকে ব্যবধান কমাতে থাকেন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারি। ৯৪ বলে ৩৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দিন শেষ করেন তারা। ৪৩ রানে গ্রিন ও ক্যারি ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। অস্ট্রেলিয়া স্কোরবোর্ডে তুলেছে ৪ উইকেটে ১৬১ রান।
আগামীকাল চতুর্থ দিনের খেলা নতুন কোনো পরিকল্পনা নিয়ে শুরু করতে চাইবে অস্ট্রেলিয়া। গ্রিন ও ক্যারির সঙ্গে ব্যাটিং লাইনে আছেন বেউ ওয়েবস্টার। এই তিন জনই যদি দাঁড়িয়ে যান, খেলেন কোনো বড় ইনিংস। তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে বাংলাদেশ। তবে রাত পেরিয়ে তারা যদি ম্যাচের প্রথম দিনের পুনরাবৃত্তি করতে পারে, বোলাররা যদি বল হাতে আগুন ঝরাতে পারেন, তাহলে শান্তদের জন্য ইতিহাস অপেক্ষা করছে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

