যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া অস্ত্রবিরতির পর লেবাননে প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে শিশুসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন।
লেবানন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়ে জেলার আলী আল-তাহের পাহাড় ও দাবশার মধ্যবর্তী এলাকায় বিমান হামলার পর সেখানে আগুনের শিখা ও ধোঁয়া দেখা যায়।
স্থানীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা যায়। আল জাজিরা ভিডিওগুলোর সত্যতাও নিশ্চিত করেছে।
লেবাননের বার্তা সংস্থা আল মানার টিভি জানিয়েছে, এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলার কারণে এসব বিস্ফোরণ ঘটে। নাবাতিয়ে চ্যানেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাগুলো মূলত কফর রেমান শহরের কাছাকাছি এলাকায় চালানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর লেবাননে একদিনে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা। এতে শিশুসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর হামলায় তাদের তিন সৈন্য গুরুতর আহত হওয়ার পর পাল্টা হিসেবে এই হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল হিজবুল্লাহর একটি সদর দপ্তর। তবে হামলার সময় সংশ্লিষ্ট হিজবুল্লাহ সদস্যের পরিবারের সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে স্বীকার করেছে তারা।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, লেবাননের সঙ্গে নতুন ও কার্যকর আলোচনা শুরুর লক্ষ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
ইসরায়েলি সরকারের মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যান বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ আলোচনা বন্ধ করার জন্য নয়, বরং তা নতুন করে শুরুর উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়েছে।
ডোরন স্পিলম্যান আরও বলেন, ইসরায়েল এখনও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তি মেনে চলছে।
তিনি এএফপিকে বলেন, ‘আমরা এই চুক্তিতে বিশ্বাস করি। আমরা আশা করি লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী বাস্তব পদক্ষেপ নেবে এবং তাদের সহায়তায় আমরা যৌথভাবে হিজবুল্লাহকে সেখান থেকে অপসারণ করতে পারব।’
উল্লেখ্য, দুই দেশের মধ্যে হওয়া চুক্তিতে বলা হয়েছে, লেবানন সশস্ত্র বাহিনীকে হিজবুল্লাহকে অস্ত্রমুক্ত করার মাধ্যমে পুরো দেশের ওপর তাদের সার্বভৌম কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। এরপর ইসরায়েলি বাহিনী ধাপে ধাপে লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সরে আসবে।
পড়ুন: হরমুজে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের রুট নিয়ে সমঝোতায় ইরান-ওমান
আর/


