চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক বিনিয়োগ ও লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানোর দাবি জানিয়েছে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।
বিমানবন্দরকে ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা, আন্তর্জাতিক রুটে ৪০ শতাংশ প্রণোদনামূলক ট্যারিফ নির্ধারণ এবং দীর্ঘপথের ফ্লাইটের জন্য ট্রানজিট ও জ্বালানি সরবরাহের সুবিধা নিশ্চিত করার প্রস্তাব দিয়েছে ব্যবসায়ী সংগঠনটি।
এ বিষয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে ১৫ আগস্ট চিঠি পাঠিয়েছেন চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।
চিঠিতে বলা হয়, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, বৃহৎ পাইকারি বাজার, রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ বিপুলসংখ্যক শিল্প-কারখানা চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবস্থিত। ফলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কেন্দ্র হিসেবে চট্টগ্রামের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।
কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিদ্যমান সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
চেম্বারের মতে, বর্তমান সক্ষমতা দিয়েই আরও বেশি যাত্রী ও কার্গো পরিবহন, ট্রানজিট এবং সংযোগকারী বিমান চলাচল আকর্ষণের সুযোগ রয়েছে।
একই সঙ্গে ঢাকাকেন্দ্রিক বিমান চলাচলের ওপর চাপ কমিয়ে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে পূর্ব-পশ্চিমের বিমান যোগাযোগ, পর্যটন ও লজিস্টিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
এ জন্য বিমানবন্দরকে ২৪ ঘণ্টা পরিচালনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুটে ৪০ শতাংশ প্রণোদনামূলক ট্যারিফ নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে চেম্বার।
দীর্ঘপথের ফ্লাইটের বিরতির সময় যাত্রী ওঠানামার সুবিধা এবং দীর্ঘপথের ফ্লাইটের জন্য ট্রানজিট ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া বিমানবন্দরসংলগ্ন পতেঙ্গা এলাকায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কার্গো ভিলেজ, অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপো ও কনটেইনার মালামাল সংরক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে বেসরকারি খাত বিনিয়োগে আগ্রহী ও সক্ষম বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, মোংলা বন্দরের সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার হ্রাসকৃত ট্যারিফ নির্ধারণ করেছে।
একইভাবে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অধিক আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল আকর্ষণ এবং বিদ্যমান সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রণোদনামূলক বা রেয়াতি ট্যারিফ প্রয়োজন।
চট্টগ্রামকে প্রকৃত অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানী এবং আঞ্চলিক বিনিয়োগ ও লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা চেয়েছে চিটাগাং চেম্বার।
পড়ুন:দুপুরের মধ্যে ৬ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস
ইমি/


