বিজ্ঞাপন

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি নির্দেশনার লঙ্ঘন: ফাঁকা মৎস্য অফিসে ঘুরছে একাধিক ফ্যান

তীব্র লোডশেডিং মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি অফিসে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়ে সরকারের কঠোর নির্দেশনা থাকলেও নেত্রকোনার বারহাট্টা সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। সরকারি নির্দেশনাকে রীতিমতো বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতেই অফিসে অবিরাম ঘুরতে দেখা গেছে একাধিক ফ্যান। অন্যদিকে, গুরুত্বপূর্ণ এই অফিসের নিরাপত্তায় দেখা গেছে লুঙ্গি পরিহিত এক বহিরাগত ব্যক্তিকে।

গত রবিবার (১৬ আগস্ট) বেলা পৌনে ১২টা থেকে সোয়া ১টা পর্যন্ত বারহাট্টা উপজেলা মৎস্য অফিসে সরেজমিনে গিয়ে চরম দায়িত্বহীনতা ও অব্যবস্থাপনার এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।

ঘটনার দিন সকালে সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ওই অফিসে যান বেশ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী। তাদের মধ্যে ছিলেন ডিবিসি টিভির জেলা প্রতিনিধি লিমন, নিউজ টুয়েন্টিফোর টিভির জেলা প্রতিনিধি সোহান, এশিয়ান টিভির জেলা প্রতিনিধি আমিনুর ইসলাম মনি এবং নাগরিক টেলিভিশনের সাংবাদিক সাখাওয়াত হোসেন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পরও অফিসে দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার দেখা মেলেনি। পুরো অফিস ছিল কার্যত অভিভাবকহীন।

অফিসে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত না থাকলেও বারহাট্টা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসানের কক্ষে দুটি ফ্যান এবং তার ঠিক পাশেই অফিস সহকারীর কক্ষে আরও দুটি ফ্যান পূর্ণগতিতে চলছিল। দেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকট ও তীব্র লোডশেডিংয়ের মধ্যে সরকারি অফিসে এমন যথেচ্ছ বিদ্যুৎ অপচয়কে সরকারের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী নির্দেশনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

অফিসে কোনো স্টাফের দেখা না মিললেও, সেখানে লুঙ্গি পরিহিত এক বহিরাগত ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা ও পাহারা দিতে দেখা যায়। জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি জানান, তিনি সরকারি চাকরিজীবী নন এবং এই অফিসের সাথে তার দাপ্তরিক কোনো সম্পৃক্ততা নেই। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র সমৃদ্ধ অফিসে বহিরাগত ব্যক্তির এমন অবাধ বিচরণ অফিসের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

সাংবাদিকদের উপস্থিতির প্রায় আধাঘণ্টা পর অফিসে দায়সারাভাবে প্রবেশ করেন অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. মোশারফ হোসেন। অফিসে বহিরাগত ব্যক্তির উপস্থিতি এবং বিদ্যুৎ অপচয়ের বিষয়ে তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি অত্যন্ত অসংলগ্ন ও দায়সারা জবাব দেন।

তিনি দাবি করেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (স্যার) তাকে ডেকেছিলেন বলে তিনি অফিস ফাঁকা রেখে বাইরে গিয়েছিলেন। অফিসে কাউকে দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিলেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বহিরাগত ওই ব্যক্তির দিকে ইঙ্গিত করলেও, পরে নিজের কথার জালেই আটকে যান। ফ্যান চালিয়ে বিদ্যুতের অপচয়ের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি এর কোনো যৌক্তিক উত্তর না দিয়ে দায়ভার তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ওপর চাপানোর চেষ্টা করেন।

বারহাট্টার মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান কলমাকান্দা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করছেন। ওই কার্যালয় থেকে নিশ্চিত করা হয়, তিনি সকালে বারহাট্টা কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং পরে কলমাকান্দার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। গণমাধ্যমকর্মীরা বারহাট্টা মৎস্য কর্মকর্তার সরকারি মোবাইল নম্বরে কল করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তার ব্যক্তিগত নম্বরে বহুবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এমনকি কলমাকান্দা প্রেস ক্লাবের সভাপতি শেখ শামীমের মাধ্যমে ফোন করানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

পরবর্তীতে সাংবাদিকরা মুঠোফোনে নেত্রকোনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হারুন-অর-রশিদের সাথে যোগাযোগ করেন। তিনি সে সময় ময়মনসিংহে একটি কনফারেন্সে অবস্থান করছিলেন। পুরো ঘটনাটি তাকে অবহিত করা হলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং বলেন, “অফিসের বাইরে থাকলে অবশ্যই ফ্যান, লাইট অফ রাখতে হবে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হওয়ার বিষয়ে সরকারের প্রজ্ঞাপন দেওয়া আছে, কোনোভাবেই বিদ্যুৎ অপচয় করা যাবে না।”

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার সরকারি ফোন বন্ধ রাখা ও ফোন না ধরার বিষয়ে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “সবচেয়ে দুঃখজনক হলো তিনি একজন কর্মকর্তা, সরকারি নম্বর তো বন্ধই, ব্যক্তিগত নম্বরে এতবার ফোন দেওয়ার পরও তিনি ধরেননি, এটি হওয়া ঠিক নয় বলে জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা।

তিনি (জেলা মৎস্য কর্মকর্তা) সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে আশ্বস্ত করেন, তিনি এমন অব্যবস্থাপনার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : সুনামগঞ্জে ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে বৃদ্ধ হত্যার অভিযোগ, পুত্রবধূসহ গ্রেপ্তার ৩

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন