বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে দুই দেশের বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ ব্যবসায়িক ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরও জোরদারে নিজ নিজ ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্য জাপানি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অধ্যাপক ইউনূস।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় জাপান সফরের স্মৃতিচারণ করেন অধ্যাপক ইউনূস। ওই সফরে জাপান সরকারের প্রতিনিধিরা দেশটির ক্রমবর্ধমান কর্মী সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন। গতকাল জাপানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনায় এ খাতে আরও সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
এ সময় অধ্যাপক ইউনূস প্রতিনিধিদলের সদস্যদের গ্রামীণের দর্শন ও বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি জানান, মানুষের সক্ষমতা, সৃজনশীলতা ও উদ্যোক্তা হওয়ার শক্তিকে কেন্দ্র করেই গ্রামীণের উদ্যোগগুলো পরিচালিত হচ্ছে। সামাজিক ব্যবসার ধারণা ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাপক স্বীকৃতি ও জনপ্রিয়তা পেয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত তিনটি বিষয়—শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ, দারিদ্র্য দূরীকরণে শূন্য সম্পদ কেন্দ্রীভবন এবং উদ্যোক্তাশক্তির বিকাশের মাধ্যমে শূন্য বেকারত্ব অর্জন।
মানুষের উদ্যোক্তা হওয়ার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সুযোগ সৃষ্টি এবং সামাজিক ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের সমাধান তৈরির মাধ্যমে গ্রামীণ প্রতিষ্ঠানগুলো এসব লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে শিক্ষা, ব্যবসা, সামাজিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানো এবং পারস্পরিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা হয়।
পড়ুন: ছয় মাসে সরকারের অর্জন জানাতে আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মতবিনিময়
আর/


