বিজ্ঞাপন

কেপিসিএলের বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ ও বিক্রি, কর্মহীন শতাধিক

খুলনার কাশিপুর-দৌলতপুর এলাকায় ১১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বার্জভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ কেপিসিএলের একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ ও বিক্রি হয়ে যাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। চাকরি হারানো এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর আইনানুগ পাওনা পরিশোধ না করার অভিযোগে কোম্পানির বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা করা হয়েছে। মামলাটির নম্বর শ্রম-৬৮/২০২৫।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে খুলনার কাশিপুর-দৌলতপুর এলাকায় ১১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বার্জভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে কেপিসিএলের কার্যক্রম শুরু হয়। ইউনাইটেড গ্রুপ ও সামিট গ্রুপের যৌথ মালিকানায় প্রতিষ্ঠানটি বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।

পরবর্তীতে ২০১১ সালে ১১৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার এইচএফও (হেভি ফুয়েল অয়েল) চালিত কেপিসিএল ইউনিট-২ স্থাপন করা হয়। একই বছর সহযোগী প্রতিষ্ঠান কেজেএপিসিএলের নিজস্ব জমিতে যশোরের নওয়াপাড়া শিল্প এলাকায় ৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরও একটি এইচএফও বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, ২০২২ সালে খুলনার ১১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বার্জভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কার্যক্রম বন্ধ করে সেটি বিদেশি একটি কোম্পানির কাছে বিক্রি করা হয়। এরপর ২০২৪ সালে ১১৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেপিসিএল ইউনিট-২ এবং যশোরের নওয়াপাড়ার ৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কার্যক্রমও বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে কেন্দ্র দুটিও বিদেশি কোম্পানির কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

এদিকে, ২০২১ সালে পটুয়াখালীতে ১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনাইটেড পায়রা পাওয়ার লিমিটেডের (ইউপিপিএল) এইচএফও বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হয়। ওই বিদ্যুৎকেন্দ্রে কেপিসিএলের ৩৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে বলে জানা গেছে।

২০০৯ সালে কেপিসিএল পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হয়। পরের বছর ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয় প্রতিষ্ঠানটি। জ্বালানি তেল, বিশেষ করে এইচএফও ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিক্রির মাধ্যমে কোম্পানিটি ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।

চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানিতে চাকরি করার পর একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ ও বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এতে তারা চাকরি হারিয়েছেন। একই সঙ্গে চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী বেতন-ভাতা, ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন আইনানুগ পাওনা তাদের পরিশোধ করা হয়নি।

পাওনা টাকা আদায়ের জন্য চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শ্রম আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কাজ করার পর হঠাৎ কর্মসংস্থান হারিয়ে অনেকেই পরিবার নিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তাই চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী প্রাপ্য সব আইনানুগ পাওনা দ্রুত পরিশোধ করা হোক।

এ বিষয়ে কেপিসিএলের অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্সের দায়িত্বে থাকা মাশিউল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার যতদূর জানা, কোম্পানি সবার পাওনা পরিশোধ করেছে। তবে এ বিষয়ে হেড অফিসের ফিন্যান্স শাখায় যোগাযোগ করতে পারেন।’

হেড অফিসের চিফ ফিন্যান্স অফিসার মামুন সারোয়ার বলেন, শ্রম আদালতে দায়ের করা মামলা সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না। তার দাবি, শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের সবার পাওনা কোম্পানি পরিশোধ করেছে। তবে কেউ কোনো পাওনা পেয়ে না থাকলে হেড অফিসে অভিযোগ করলে যাচাই করে তার ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করা হবে।

তবে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, তাদের পাওনা পরিশোধের বিষয়টি শ্রম আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। তারা দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি এবং কোম্পানির কাছে থাকা তাদের ন্যায্য পাওনা আইন অনুযায়ী পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন।

পড়ুন:এজেন্ট ও দালালদের থেকে সাবধান থাক‌তে ব‌লে‌ছে ভারতীয় হাইক‌মিশন

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন