বিজ্ঞাপন

ক্লাসরুম না থাকায় শহীদ মিনারে চলে সরকারি স্কুলের পাঠদান

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় খরখরিয়া ২ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণিকক্ষ সংকট চলছে। ফলে বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস নিতে হচ্ছে কোমলমতি শিশুদের, যার কারণে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম।

জানা যায়, ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ১৯৭৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়।১৯৮৯-১৯৯০ সালে ২ কক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পিডি-২ প্রকল্পের অধীনে দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে ভবনটির একটি কক্ষ অফিস হিসেবে এবং অন্যটি ৩য় শ্রেণির ক্লাসরুম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে পুরাতন ভবনটি জরাজীর্ণ হওয়ায় গত ১২-১১-২০২৫ সালে নিলামের মধ্যেমে ভেঙে ফেলা হয়েছে। পুরাতন ভবনটি অপসরণে ১০ মাস হয়ে গেলেও নুতন ভবন নির্মাণ না করায় খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করতে হচ্ছেন শিক্ষার্থীদের।

বর্তমানে খরখরিয়া ২ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ১০ জন এবং শিশু শ্রেণী সহ বিদ্যালয়ে মোট শিকার্থী ১৮১ জন। প্রতি বছর ভালো ফলাফলের জন্য সুনাম অর্জন করায় স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়লেও সে অনুপাতে হয়নি কোনো কাঠামোগত উন্নয়ন—এমনটাই দাবি শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর।

বিদ্যালয় ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় দুই কক্ষের দুইটি টিনের চালা ঘর তুলে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ১৮১ জন শিক্ষার্থীর তুলনায় এটি অত্যন্ত অপ্রতুল। ফলে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাধ্য হয়ে শহীদ মিনারে বেদিতে ও খোলা আকাশের নিচে পাঠদান চালাতে হচ্ছে। তবে বিদ্যালয়টির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দাবি রোদ ও বৃষ্টি দুটোই তাদের জন্য এখন ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও প্রচন্ড গরমে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের রোগ রোগব্যাধি হওয়ায় আশংকা রয়েছে।

​চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জানায়, আমাদের ক্লাসরুম না থাকায় প্রখর রোদে বাইরে বসতে হয়। প্রচন্ড গরম আমাদের খুব কষ্ট হয়। আর বর্ষাকালে বৃষ্টি এলেই ক্লাস বন্ধ হয়ে যায়। দ্রুত একটি নতুন ভবনের ব্যবস্থা করার জন্য তারা সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অভিভাবক জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে এই স্কুলের ভবন নেই কর্তৃপক্ষ শুধু পরিদর্শন করে কই কোন কাজ তো হচ্ছে না। রোদ আর বৃষ্টি উপেক্ষা করে শিকার্থীরা পড়াশুনা করছেন। যে রোদ আর গরম বাচ্চারা তো অসুস্থ হয়ে যাবে। দ্রুত একটি ভবনের ব্যবস্থা করলে শিকার্থীদের এই কষ্ট আর থাকবে না।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক আয়শা আক্তার জানান, জরাজীর্ণ পুরোনো ভবনটি ২০২৫ সালে নিলামে ভেঙে ফেলার পর তীব্র শ্রেণিকক্ষ সংকট দেখা দেয়। দুইটি টিনের চালা ঘর তৈরি করা হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। ভবন না থাকায় পাঠদানে শিকার্থীদের মনোযোগ হরিয়ে যাচ্ছে।

​বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর মোস্তাফা জানান, ভবনের বিষয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বহুবার লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এদিকে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে প্রতিনিয়ত শিকার্থীদের পাঠদানের চরমভাবে ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন।

​এ বিষয়ে চিলমারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার কামরুজ্জামান সরকার বলেন, নতুন ভবনের জন্য প্রস্তাবণা পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও সামনের সাময়িক সময়ের জন্য সেখানে যে দুটি ঘর আছে আমরা নিজ অর্থায়নে আরো দুটি ঘর উঠায় দিবো।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : এক রাতেই ৯ গরু চুরি, দিশেহারা খালিয়াজুরীর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন