বিজ্ঞাপন

অর্থবছরের সময় কেন বদলাচ্ছে বাংলাদেশের সরকার, লাভ-ক্ষতি কী হবে?

গত প্রায় ৫৫ বছর ধরে বাংলাদেশের আর্থিক হিসাবনিকাশ এর বছর শুরু হয় পহেলা জুলাই আর শেষ হয় ৩০শে জুন। সেভাবেই বাজেট প্রণয়ন থেকে শুরু করে সরকারি আয়-ব্যয়, ব্যাংকিং ব্যবস্থা বা আর্থিক সব হিসাব করা হয়।

দীর্ঘ প্রায় ৫৫ বছর ধরে চলে আসা এই ধারায় এবার পরিবর্তন আনছে সরকার।

সম্প্রতি পহেলা জুলাইয়ের পরিবর্তে পহেলা এপ্রিল থেকে নতুন অর্থবছর শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের মন্ত্রিসভা। অর্থাৎ অর্থবছর শেষ হবে ৩১শে মার্চ।

এই সিদ্ধান্ত ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে।

অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত সামনে আসার পর থেকেই এ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে কী সুবিধা বা অসুবিধা হতে পারে এবং সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের পথে কী কী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে, সেসব আলোচনাও সামনে আসছে।

অর্থনীতিবিদ ও গবেষকরা বলছেন, অর্থবছর ঠিক করার মূলত কোনো “আন্তর্জাতিক নিয়ম” নেই। প্রতিটি দেশ তার নিজস্ব আবহাওয়া, কৃষি, রাজনৈতিক চক্র দেখেই এটি ঠিক করে।

এই যেমন- বাংলাদেশ, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া এবং মিশরের মতো অনেক দেশ অর্থবছর হিসেবে জুলাই-জুন অনুসরণ করে। আবার ভারত, যুক্তরাজ্য, জাপানের অর্থবছর এপ্রিল-মার্চ।

চীন, জার্মানি এবং ব্রাজিলের অর্থবছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর। আর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থবছর অক্টোবর থেকে সেপ্টেম্বর।

বাংলাদেশের অর্থবছরে পরিবর্তন এনে এপ্রিল-মার্চ করার যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, তার মূল কারণ হিসেবে, বর্ষাকালকে অর্থবছরের শেষ থেকে সরিয়ে উন্নয়ন কাজের মান ও গতি বাড়ানোর কথা বলছে সরকার।

যদিও ৫৫ বছরের পুরোনো চক্র ভেঙে পুরো আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে নতুন ধারায় আনার এই উদ্যোগকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন অর্থনীতিবিদ ও গবেষকরা।

তারা বলছেন, ক্যালেন্ডারের পাতা তিন মাস এগিয়ে দিলেও- যদি নির্দিষ্ট মেয়াদে প্রকল্প শেষ না হয়, ব্যয় না কমে, দুর্নীতি না থামে- তাহলে এই পরিবর্তন কোনো কাজে আসবে না।

“বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন না এনে কেবল অর্থবছরের সময়কালে পরিবর্তন আনলে কোনো গুণগত পরিবর্তন হবে না,” বলেই মত সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বা সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এর।

বাংলাদেশে দৈনন্দিন জীবনে বঙ্গাব্দ ও খ্রিষ্টাব্দ দুটোই ব্যবহার করা হয়। পহেলা বৈশাখ থেকে চৈত্র মাসের হিসাব যেমন অনেক ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করেন আবার অনেক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পহেলা জানুয়ারি থেকে ৩১শে ডিসেম্বর বছরের হিসাব করা হয়।

কিন্তু রাষ্ট্রের আর্থিক হিসাব-নিকাশ চলে অন্য একটি ক্যালেন্ডারে- যার নাম অর্থবছর।

অর্থবছর হলো ১২ মাসের একটি নির্দিষ্ট সময়, যার মধ্যে সরকার আয়-ব্যয়ের হিসাব করে, বাজেট প্রণয়ন করে এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে।

দেশের জিডিপি, রাজস্ব আদায়, মুদ্রাস্ফীতি, ঋণ- সবকিছুর হিসাব এই অর্থবছর ধরেই হয়।

অর্থবছর এক দেশের সরকারের নীতি-সিদ্ধান্তে পরিবর্তনযোগ্য। গত কয়েক দশকে বিশ্বের বহু দেশ প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেদের অর্থবছর বদলেছে।

মূলত ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতবর্ষে জুলাই-জুন অর্থবছর চালু হয়। পাকিস্তান আমলেও তা বহাল থাকে।

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ১৯৭২ সালে একবার, ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ থেকে ৩০শে জুন ১৯৭২ পর্যন্ত “শর্ট ইয়ার” বাজেট দিয়েছিলেন।

এরপর থেকেই আজ পর্যন্ত পহেলা জুলাই থেকে ৩০শে জুন সময়টিই অর্থবছর হিসেবে ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। যার পেছনে বাজেট ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক সমন্বয় এই দুটি বিষয়ই মোটাদাগে কাজ করে।

অর্থনীতিবিদ ও গবেষকরা বলছেন, জুন মাসে অর্থবছর শেষ করে নতুন বাজেট ঘোষণা- বাংলাদেশে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। ফলে বাংলাদেশের প্রশাসন, ব্যাংক, কর কাঠামো সবই এই চক্রে অভ্যস্ত।

এছাড়া বিশ্বব্যাংকের অর্থবছর জুলাই থেকে শুরু। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের বড়ো ঋণ ও অনুদান আসে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ থেকে। তাদের সঙ্গে হিসাব মেলাতে জুলাই-জুন সুবিধাজনক।

বিজ্ঞাপন

সূত্র : বিবিসি বাংলা

পড়ুন : মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ, ফের বাড়ল তেলের দাম

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন