বিজ্ঞাপন

আন্ত:শাহীন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিএএফ শাহীন কলেজ কুর্মিটোলা চ্যাম্পিয়ন

আন্ত:শাহীন বিতর্ক প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনাল ও পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ মানব সভ্যতার জন্য আশির্বাদ নয়, অস্তিত্বের সংকট শীর্ষক চুড়ান্ত বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিএএফ শাহীন ইংলিশ মিডিয়াম কলেজকে পরাজিত করে বিএএফ শাহীন কলেজ কুর্মিটোলা চ্যাম্পিয়ন হয়।

সমাপনি ও পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (পরিচালন) এয়ার ভাইস মার্শাল রুশাদ দীন আছাদ প্রধান অতিথি হিসেবে চ্যাম্পিয়ন, রানারআপসহ বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করেন। চুড়ান্ত বিতর্ক প্রতিযোগিতাটি মডারেটর হিসেবে পরিচালনা করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আয়োজক প্রতিষ্ঠান বিএএফ শাহীন কলেজ ঢাকা’র অধ্যক্ষ গ্রুপ ক্যাপ্টেন শান্তনু চৌধুরী। চারদিন ব্যাপি অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে বিতর্ক প্রতিযোগিতা ছাড়াও কুইজ, গণিত, বিজ্ঞান ও স্পেলিং কম্পিটিশন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী পরিচালিত বাংলাদেশের ১০টি বিএএফ শাহীন স্কুল ও কলেজের প্রায় ৩০০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এয়ার ভাইস মার্শাল রুশাদ দীন আছাদ বলেন, সংসদে দাড়িয়ে যুক্তি সহকারে তথ্য উপস্থাপন করা, নিজের বক্তব্য জোরালোভাবে উপস্থাপন করে মনোযোগ আকর্ষণ করার ভিত্তি এই বিতর্কের মঞ্চ। প্রতিদ্বন্দ্বীদের শত্রুতার চোখে না দেখে যুক্তির মাধ্যমে সবকিছু মোকাবেলা করতে হবে। এই ধরনের প্রতিযোগিতা জ্ঞানের বিকাশ, চিন্তাশক্তি বাড়ানো ও নেতৃত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই ধরনের আয়োজন অব্যাহত রেখে শুদ্ধ উচ্চারণ ও হাতের লেখার প্রতি যত্নশীল হওয়ার আহবান জানান তিনি।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা চিকিৎসা বিজ্ঞান, রোগ নির্ণয়, মানব শ্রমের অপচয় কমানো, ব্যবসা—বাণিজ্য, গ্রাহক সেবাসহ যাপিত জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রেই নানাভাবে সহযোগিতা করছে। চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে গ্রাহকের প্রশ্নের উত্তর তাৎক্ষনিকভাবে পাওয়া যাচ্ছে। মানুষের ভুল ত্রুটি কমিয়ে এনে চোখের পলকে তথ্য বিশ্লেষণ করা সম্ভব হচ্ছে। অন্যদিকে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা মানবসম্পদের ব্যবহারকে কমিয়ে দিয়ে বেকার সমস্যা তৈরি করবে কি না তা এখন বিশ্লেষকদের ভাবিয়ে তুলছে। আমাদের মতো শ্রমঘন দেশে সর্বত্র কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার কর্মসংস্থানে বাধা সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক বৈষম্য তৈরির শঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারের কারনে ভূয়া ছবি, ভূয়া ভিডিও, অডিও ক্লোনিং এর মাধ্যমে সমাজে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে। মানুষের মানহানি, আর্থিক প্রতারণা, ঘৃণা ও সহিংসতা উস্কে দিবার লক্ষে কিছু কিছু দুষ্কৃতিকারীরা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের লক্ষে উস্কানিমূলক ভূয়া মিথ্যা তথ্য তৈরি করে ছড়িয়ে দিচ্ছে। অপপ্রচার ও গুজব ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তাই কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ একদিকে মানব সভ্যতার জন্য আশির্বাদ, অন্যদিকে অস্তিত্বের সংকট তৈরি করার শঙ্কা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : নিরাপদ খাদ্য ও পরিবেশবান্ধব কৃষির পথ দেখাচ্ছেন নেত্রকোনার কৃষকরা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন