খুলনা শহরকে জলবায়ু সহনশীল করে গড়ে তুলতে পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
বুধবার (১৯ আগস্ট) নগরীর সিএসএস আভা সেন্টারে ‘খুলনা শহরের জন্য জলবায়ু সহনশীলতা কৌশল: পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ)’ শীর্ষক দিনব্যাপী পরামর্শ কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
কেসিসির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজিত নগর উন্নয়ন (সিসিএইউডি)’ প্রকল্পের আওতায় পরামর্শক সংস্থা এ্যাকোম্পানী মেজর কনসালট্যান্ট (এএমসি) এ কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালায় কেসিসি প্রশাসক বলেন, নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জলাবদ্ধতা বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা থেকে সাময়িকভাবে পরিত্রাণ পাওয়া গেলেও এসব ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। এজন্য জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।
তিনি নিম্নআয়ের মানুষের আবাসস্থলে পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে খুলনা ওয়াসার প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানির এটিএম বুথ স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মৌসুমভেদে ওয়াসার সরবরাহকৃত পানির গুণগত পরিবর্তন, বিশেষ করে কোন মৌসুমে পানিতে লবণাক্ততা বাড়তে পারে—এ বিষয়ে আগেই নগরবাসীকে সতর্ক করার জন্যও ওয়াসা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
কর্মশালায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফিরোজ শাহ, কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান এবং এএমসির আন্তর্জাতিক টিম লিডার শেখ মুহাম্মদ মেহেদী আহসান। স্বাগত বক্তব্য দেন কেসিসির প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার।
কর্মশালায় কেসিসি ও খুলনা ওয়াসার পাশাপাশি খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ), জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বাংলাদেশ সরকার, জার্মান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন যৌথভাবে সিসিএইউডি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ২০২২ সালের নভেম্বরে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা শক্তিশালী করার মাধ্যমে নগরবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
প্রকল্পের আওতায় প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢাকা-ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)-কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কৌশল প্রণয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কেসিসির কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে ইতোমধ্যে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন কৌশলের বাস্তবায়ন কার্যক্রম চূড়ান্ত করতে এ পরামর্শ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
পড়ুন : নিরাপদ খাদ্য ও পরিবেশবান্ধব কৃষির পথ দেখাচ্ছেন নেত্রকোনার কৃষকরা


