নোয়াখালী সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নে বেদেপল্লীকে কেন্দ্র করে মাদক ব্যবসার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে উপজেলার মান্নান নগর বাজার এলাকার লালঘর সংলগ্ন মুকবুল আহমেদ জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে এওজবালিয়া ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো। এ সময় অন্যান্যের বক্তব্য রাখেন- এওজবালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকব হোসেন, ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল আমিন, নোয়াখালী সরকারি কলেজের সাবেক ছাত্রনেতা মাজহারুল হক চৌধুরী শিবলু, সাবেক ছাত্রনেতা মামুনুর রশীদ বাবর, সামছদ্দিন ড্রাইভার ও সেলিম চৌধুরীসহ স্থানীয়রা।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, এওজবালিয়া ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব এওজবালিয়া এলাকায় ২০১০ সালের দিকে নৌকা ও যাযাবর জীবন ছেড়ে বেদে সম্প্রদায়ের লোকজন স্থায়ীভাবে বসতি গড়ে তোলেন। বর্তমানে ওই এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৬০০ পরিবারের বসবাস রয়েছে।
তাদের অভিযোগ, স্থায়ীভাবে বসতি গড়ে সামাজিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করলেও বেদেপল্লীর বৃহৎ একটি অংশের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, ওই এলাকায় মাদক ব্যবসার বিস্তারের কারণে স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং তরুণদের একটি অংশ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেন, বেদেপল্লীতে বসতি গড়ে ওঠার আগে এলাকায় মাদকের এমন বিস্তার ছিল না। বেদেরা বসবাস শুরুর পর থেকে এখানে মাদকের ডিলারদের তৎপরতা বেড়েছে। বেদের সঙ্গে সরাসরি মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা মাদক প্রচারকারীদের যোগাযোগ রয়েছে। তারা সেখান থেকে মাদক এনে এখানে বিক্রি করছে।
বক্তারা দাবি করেন, প্রশাসনের বিভিন্ন অভিযানে এওজবালিয়া ইউনিয়ন ও বেদেপপ্লী এলাকা থেকে ইয়াবাসহ একাধিক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার হলেও পরে তারা জামিনে বেরিয়ে আবারও একই কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছেন।
তাদের দাবি, বেদেপল্লীতে নজরদারি বাড়িয়ে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও সামাজিক পরিবেশ রক্ষায় দেবেদের জন্য রোহিঙ্গাদের মতো আলাদা ক্যাম্প আকৃতির কলোনী করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন তারা।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো বলেন, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মাদক যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ থেকে সমাজকে রক্ষা করতে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষকেও ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মাদক ও সন্ত্রাসের সঙ্গে বিএনপির কোনো নেতাকর্মী জড়িত থাকলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকবিরোধী কার্যক্রমে স্থানীয়দের এমন উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান এবং মাদক নির্মূলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
পড়ুন : প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের অপেক্ষায় দিল্লি: দীনেশ ত্রিবেদী
সা/


