রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) যোগদানের পর থেকে বিষহীন শাসন চলমান রয়েছে। গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে ইউএনও হিসাবে যোগদান করার পর থেকেই উপজেলা চেয়ারম্যান এবং পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন জান্নাতুল ফেরদৌস। অথচ তার শাসনে নেই কোন প্রতিকার। সুফল পাচ্ছে না স্থানীয়রা, সরকারী বরাদ্দের অর্থে উন্নয়নের স্থাপনার টেকসই নিয়ে রয়েছে বড় প্রশ্ন।
প্রচলিত বাংলায় সাপ ফোনা তুলে কিন্ত বিষ নেই, ভয় ও ভরসা দুটোই নাই , যার নাম “ ঢোঁড়া শাপ” গ্রাম বাংলায় এই সাপকে ডোরা বলে। এই সাপকে দিয়ে বাড়ির আসে পাশের ইঁদুর বংশ বিস্তার রোধ করে, এবং ব্যাঙ খেয়ে ফসলি জমি রক্ষা করে। কিন্ত বর্তমান প্রশাসন ঢোঁড়া সাপের ভূমিকায় নেই, শুধু বিষহীন শাসন প্রচলন রয়েছে।
ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌস নিরব ভূমিকায় রয়েছে এমনটাই গুঞ্জন উঠেছে উপজেলা স্থানীয়দের মাঝে। সাপের বিষদাঁত ভেঙ্গে দিয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব। স্থানীয়দের গুঞ্জনের সূত্রধরে অনুসন্ধানে নামে পত্রিকার প্রতিনিধি। উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনের দাপ্তরিক তথ্যমতে জানা যায়, সরকারী বরাদ্দের কমতি না থাকলেও বাস্তবায়ন ও টেকসই নিয়ে একাধিক অভিযোগ রয়েছে উপজেলা ও পৌরবাসীদের।
বর্তমান ইউএনও উপজেলা চেয়ারম্যান এবং পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন শুধু তার নিজ কার্যালয়ে চেয়ার আর টেবিলে, বাস্তবে নেই কোন রূপরেখা। সরকারী কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিচ্ছে স্থানীয় জনগনের উন্নয়নের জন্য। কিন্ত বরাদ্দের টাকার সঠিক ব্যবহার বা কাজের মানের স্থায়ীত্ব যাচায় করাও নৈতিক দায়িত্ব। কিন্ত সরজমিনে নেই তার তদারকি। তবে এর কারন খুজে পাওয়া যায় রাজনৈতিক প্রভাব।
চারঘাট উপজেলা চেয়ারম্যানের এডিপি’র বরাদ্দের তথ্য নিতে গেলে ঘুড়তে হচ্ছে একাধিক দপ্তর। উপজেলা অফিস বলছে প্রকল্প উন্নয়ন বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এবং প্রকৌশলী দপ্তর সরকারী বরাদ্দের তথ্য দিবে, কিন্ত সেখানেও রয়েছে অনেক রহস্য। সর্বপরি সঠিক কোন তথ্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর দেয়নি। উপজেল চেয়ারম্যান রাজস্ব আয় ও ব্যায় খাতা কলমে ঠিক থাকলেও বাস্তবে সচ্ছতার প্রশ্ন রয়েছে।
একইভাবে পৌরসভার বিগত দিনের কোন সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। বিগত সরকারের আমলে দায়িত্বরত মেয়রসহ কর্মকর্তাচারীদের দোষারোপ দিয়ে পৌরসভার হিসাবের খাতা বন্ধ। তবে পকোটি কোটি টাকার চলমান প্রকল্পের তথ্য পাওয়া যায়। এই তথ্যমতে সরজমিনে গেলে দেখা যায় নিয়োগ প্রাপ্ত ঠিকাদার তাদের খেয়াল খুশি মতো কাজ করছেন। নিম্ন মানের উপকরণ আর নির্ধারিত সময়ে ঠিকাদার কাজ সম্পূর্ন করতে পারছে না। অভিযোগের বিষয় গুলো নিয়ে একাধিকবার ইউএনও কে আইন শৃঙ্খলা সভার মাধ্যমে জানালেও তিনি কোন পদক্ষেপ নেইনি। যার কারনে আবারও প্রমাণ বহন করে বিষহীন শাসন।
তবে পৌরসভা সহকারী প্রকৌশলী মজিবুর রহমান বলেন, প্রায় ৪৩ কোটি টাকার কাজের টেন্ডার থাকলেও বেশির ভাগ কাজ বন্ধ আছে। ঠিকাদারকে একাধিক বার চিঠি দিলেও তারা কাজ শুরু করছে না। প্রশাসক জান্নাতুল ফেরদৌস বিষয়টি জানেন, তবে ব্যবস্থা কেন নিচ্ছেন না, তার ব্যখ্যা প্রকৌশলী দিতে পারেনি।
এবিষয়ে ইউএনওকে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। প্রসঙ্গত জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, চারঘাট উপজেলা ইউএনও’র অধীনস্থ বিষয়গুলো ক্ষতিয়ে দেখে জানানো হবে।
পড়ুন:নোয়াখালীর বেদেপল্লীতে মাদক ব্যবসা, প্রতিবাদে বিক্ষোভ-সমাবেশ
ইমি/


