বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেয়নি ইসলামী আন্দোলন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে ঐকমত্য হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় দলটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ সাংবিধানিকভাবে অলংকারিক হলেও জাতীয় সংকট ও জাতীয় নির্বাচনের সময় এ পদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রাষ্ট্রপতি দেশের সার্বজনীন ঐক্য ও আস্থার প্রতীক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে দেশে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার অন্যতম কারণ দলীয় রাষ্ট্রপতি। এ সংকট নিরসনে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বেশ কিছু বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে বিএনপিরও কোনো নোট অব ডিসেন্ট ছিল না।

তিনি বলেন, জুলাই সনদে সম্মত নীতিগুলো অনুসরণ করে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন বলে তারা প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু তা না হওয়ায় বর্তমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়াকে সমীচীন মনে করছে না ইসলামী আন্দোলন।

ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব জানান, জুলাই সনদের ১০ নম্বর ধারায় রাষ্ট্রপতি আইনসভার উভয় কক্ষের সদস্যদের গোপন ভোটে নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। এ বিষয়ে বিএনপিসহ সংশ্লিষ্ট দলগুলো একমত ছিল।

এ ছাড়া সনদের ২৮ নম্বর ধারায় অর্থবিল ও আস্থাভোট ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, এ বিষয়েও কোনো নোট অব ডিসেন্ট ছিল না।

গাজী আতাউর রহমানের অভিযোগ, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জুলাই সনদে ঐকমত্য হওয়া ওই দুই বিষয়ের কোনোটিই মানা হচ্ছে না। তাঁর ভাষায়, এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে গাদ্দারির শামিল।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকলে রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা আগেই নির্ধারিত থাকার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাহলে এ ধরনের নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু এ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান যাঁর নাম ঘোষণা করবেন, তাঁকেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হলে নির্বাচন কমিশন, সংসদ সদস্য ও সংসদের ভূমিকা কী থাকে তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর মতে, এতে জনগণের অর্থ ব্যয় হওয়ার পাশাপাশি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ৩৫ বছর পর ব্যালটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আজ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন