চেক জালিয়াতির মামলায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা জরিমানা হওয়া সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের ভাই ও যুবলীগ নেতা শহীদ সরফরাজ হোসেন মৃদুলের সম্পত্তি ক্রোক ও নিলামের প্রক্রিয়া শুরু করেছে মেহেরপুর জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসনের পক্ষে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুমাইয়া জাহানের নেতৃত্বে একটি দল মৃদুলের বাসভবনে গিয়ে এ সংক্রান্ত নোটিশ জারি করে।
নোটিশে বলা হয়েছে, দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৮-এর ৭১ ধারা অনুযায়ী মৃদুলের কাছ থেকে ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা আদায়ে তার বিক্রয়যোগ্য স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ, ক্রোক ও নিলামের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসনের প্রস্তুত করা তালিকা অনুযায়ী, অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে তিনটি সিলিং ফ্যান, একটি ফ্রিজ, দুটি খাট, এক সেট সোফা, দুটি আলমিরা, একটি ড্রেসিং টেবিল ও একটি এসি। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এ ছাড়া স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ঝাউবাড়িয়া, মেহেরপুর ও হরিরামপুর মৌজায় মোট ৩ দশমিক ৩৬৪৫ একর জমি। এসব জমির আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে তালিকাভুক্ত সম্পত্তির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, মৃদুলের সাবেক ব্যবসায়িক অংশীদার দেবাশীষ কুমার বাগচী ২০২৪ সালে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আদালত মৃদুলকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং চেকের অঙ্কের দ্বিগুণ ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা জরিমানা করেন।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানার টাকা পরিশোধ না করায় বাদী অর্থ আদায়ের জন্য আদালতে আবেদন করেন। পরে আদালতের নির্দেশে জেলা প্রশাসন মৃদুলের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও নিলামের প্রক্রিয়া শুরু করে।
পড়ুন: দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম
আর/


