বরগুনার তালতলীতে আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা, বহিরাগত সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের মহড়া ও দলকে ব্যবহার করে সুবিধাবাদীদের পুনর্বাসনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগষ্ট) রাতে তালতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মিয়া. মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের নেতৃত্বে তাঁর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক অভিযোগ করেন, “বিগত ১৭ বছর যাদের রাজপথের কোনো আন্দোলনে দেখা যায়নি, তারা আজ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক নজরুল ইসলাম মোল্লার আনুকূল্য পেয়ে দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য এবং নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। বিগত দিনে আমরা সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, স্থানীয় মন্দির এবং রাখাইন সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। অথচ বর্তমানে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এক শ্রেণীর সুবিধাবাদী দালাল রাখাইন সম্প্রদায়ের জমি দখল, জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল আত্মসাৎ এবং টিসিবি ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমে স্বজনপ্রীতি চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, তারা বিগত সরকারের অনুসারী আওয়ামী ঠিকাদারদের পুনর্বাসনেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
গত ১৫ আগস্ট বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ মাহফিলে প্রদত্ত বক্তব্যে আমি এসব অন্যায়-অনিয়ম এবং বঞ্চিত নেতাকর্মীদের পক্ষে প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। এর জের ধরে আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আমি সেই বক্তব্যের জন্য দুঃখপ্রকাশ করা সত্ত্বেও আমাকে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়িয়ে দিয়ে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “নজরুল ইসলাম মোল্লার প্রত্যক্ষ মদদে উপজেলা বিএনপির একটি গোষ্ঠী গত কয়েকদিন ধরে আমাকে এবং আমার কর্মী-সমর্থকদের প্রকাশ্যে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে। আজকের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলা চালানের উদ্দেশ্যেই তারা বরগুনা ও আমতলী থেকে বহিরাগত সশস্ত্র সন্ত্রাসী ভাড়া করে তালতলীতে এনেছে। গত দুই-তিন দিন ধরে এলাকায় অস্ত্রের মহড়া ও চরম নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হলেও, স্থানীয়দের সহায়তায় ইতিমধ্যেই পাঁচজন সশস্ত্র সন্ত্রাসীকে বিদেশী অস্ত্র ও গুলিসহ হাতেনাতে ধরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে। তালতলীর শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সন্ত্রাসী ও ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।”
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ন-আহবায়ক মোঃ শামীম আহসান, মংসেলেন তালুকদার, উপজেলা যুবদলের সিনিয়ার যুগ্ন আহবায়ক মিয়া. রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ, উপজেলা শ্রমিক দলের আহবায়ক মো. আল-আমিন, সদস্য সচিব মোঃ সিদ্দিকুর রহমান মামুন, যুগ্ম-আহ্বায়ক তামিম হাসান রানা। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মোঃ আসলাম আকন। উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম জহির, তালতলী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মো. রুহুল আমিন হোসেন রোমান, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য নেহাল ইসলাম রাকিব, তালতলী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক মোঃ সুমন কারীসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা
আর/


