এলএনজি সরবরাহের অভাবে টানা তিন দিন বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হয়েছে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল। স্পট মার্কেট থেকে কেনা ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের (বিপি) একটি এলএনজিবাহী কার্গো নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেই দেশে পৌঁছানোর পর শনিবার বিকেলে টার্মিনাল থেকে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। এতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহও কিছুটা বেড়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২৩০ কোটি ঘনফুটের কিছু বেশি। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ হয়েছে ১৬২ কোটি ঘনফুটের কিছু বেশি। আর সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে এসেছে প্রায় ৬৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস।
সংশ্লিষ্ট তিন কর্মকর্তা জানান, শনিবার বেলা ২টা থেকে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে ঘণ্টায় প্রায় ১০ কোটি ঘনফুট হিসাবে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। রাত ৯টার পর সরবরাহ আরও কিছুটা বাড়তে পারে।
এর আগে টানা ২৫ দিনের তীব্র গ্যাস-সংকটের পর গত ১৫ আগস্ট সামিটের টার্মিনাল পুরোদমে এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিকভাবে চালু হলে গ্যাস সরবরাহ বাড়ে। তবে নতুন এলএনজি কার্গো না থাকায় এক্সিলারেটের সরবরাহ ধীরে ধীরে কমে যায়। একপর্যায়ে গত বুধবার বিকেলে টার্মিনালটির সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
শনিবার নতুন এলএনজি কার্গো পৌঁছানোর পর টার্মিনালে থাকা মজুত থেকে আবার সরবরাহ শুরু করা হয়েছে। দুপুর ১২টায় এলএনজি সরবরাহ ছিল ৫৮ কোটি ঘনফুট। বিকেলে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৮ কোটি ঘনফুটে। রাতে সরবরাহ ৭৫ কোটি ঘনফুটে উন্নীত হলে জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২৩৭ কোটি ঘনফুটে পৌঁছাতে পারে।
তবে এতে দেশে চলমান গ্যাস-সংকট পুরোপুরি কাটবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আগামী কয়েক দিনও প্রায় একই মাত্রায় গ্যাস সরবরাহ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পেট্রোবাংলা ও রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। সর্বোচ্চ প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে এত দিন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সরবরাহের সক্ষমতা ছিল প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট। বাকি গ্যাস এসেছে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গত এক মাস ধরে দেশের এলএনজি সরবরাহ গড়ে সক্ষমতার অর্ধেকের মতো রয়েছে। নিয়মিত প্রক্রিয়ার বাইরে কম দামে এলএনজি কেনার জন্য সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে জ্বালানি বিভাগ বেশ কয়েকটি কার্গোর ক্রয়াদেশ দিয়েছিল। এর মধ্যে আগস্ট মাসেই চারটি কার্গো দেশে আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত সেগুলোর একটিও আসেনি। ফলে টার্মিনাল প্রস্তুত থাকলেও পর্যাপ্ত এলএনজি না থাকায় সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি।
জ্বালানি বিভাগের অনুমোদনে এলএনজি আমদানি তদারক করে পেট্রোবাংলা। আর আমদানির দায়িত্বে রয়েছে পেট্রোবাংলার অধীন আরপিজিসিএল।
এলএনজি আমদানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে তিন দফায় দরপত্র আহ্বানের পর চলতি আগস্টের জন্য দুটি এলএনজি কার্গো পাওয়া গেছে। এর একটি শনিবার দুপুরে দেশে পৌঁছেছে। রাতেই কার্গোটি থেকে এক্সিলারেটের টার্মিনালে এলএনজি খালাসের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা। অপর কার্গোটি আগামী ২৬ বা ২৭ আগস্ট দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
দেশে গত নয় বছর ধরে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমছে। ঘাটতি পূরণে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি শুরু করে সরকার। কক্সবাজারের মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির এবং অন্যটি দেশীয় কোম্পানি সামিটের।
এর আগে গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যায়। ১৫ আগস্ট টার্মিনালটি পুরোদমে এলএনজি সরবরাহের জন্য প্রস্তুত হলেও নতুন কার্গো না আসায় পুরোনো মজুত থেকে সীমিত পরিমাণে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। এক্সিলারেটের সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পর সামিটের টার্মিনাল থেকে সক্ষমতার তুলনায় বেশি গ্যাস সরবরাহ করা হয়। তবে এলএনজি সংকটের কারণে সামিটের সরবরাহও একপর্যায়ে বন্ধ রাখতে হয়েছিল।
পড়ুন:মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ
ইমি/


