সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার সদরপুর ভাঙা ব্রিজ এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে একটি প্রাইভেটকার থেকে ৪০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় গাড়ির চালক জাবেদ আহমদ (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় আরও দুইজনকে পলাতক আসামি করে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রবিবার (২৩ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের সদরপুর গ্রামের জামালের চায়ের দোকানের সামনে অভিযানটি পরিচালিত হয়। জব্দ করা গাঁজা, প্রাইভেটকার ও একটি মোবাইল ফোনসহ আলামতের আনুমানিক মূল্য ১৪ লাখ টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়, সুনামগঞ্জের ‘খ’ সার্কেলের দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ থানার নতুন ব্রিজ এলাকা থেকে একটি কালো রঙের প্রাইভেটকারে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা সুনামগঞ্জের দিকে আনা হচ্ছে। পরে উপ-পরিদর্শক মো. আতাউর রহমান সজীবের সার্বিক দিকনির্দেশনায় ভোর ৬টায় একটি রেইডিং টিম গঠন করে সদরপুর ভাঙা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নেয়।
সকাল ৮টার দিকে শায়েস্তাগঞ্জ থেকে আসা ঢাকা মেট্রো-গ-১৩-০৬১৪ নম্বরের কালো রঙের প্রাইভেটকারটিকে সংকেত দিয়ে থামানো হয়। স্থানীয় দুই সাক্ষী—জামাল উদ্দিন ও সুবাশ দাসের উপস্থিতিতে গাড়িটি তল্লাশি করে চালক জাবেদ আহমদকে আটক করা হয়।
তল্লাশির সময় গাড়ির পেছনের ডালা থেকে দুটি গেঞ্জির ভেতরে স্কচটেপ ও পলিথিনে মোড়ানো মোট ৪০টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে চারটি বড় প্যাকেটে ২০ কেজি এবং ২০টি ছোট প্যাকেটে আরও ২০ কেজি গাঁজা ছিল। ঘটনাস্থলেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ডিজিটাল ওজন মাপার যন্ত্র দিয়ে ওজন নিশ্চিত করা হয়।
অভিযানের সময় জব্দ করা হয় ৯৮ মডেলের কালো রঙের প্রাইভেটকারটি এবং গ্রেপ্তার আসামির পকেট থেকে একটি ইনফিনিক্স এক্স৬৮৮৭ মডেলের মোবাইল ফোন। পরে ঘটনাস্থলেই জব্দতালিকা প্রস্তুত করে সাক্ষী, গ্রেপ্তার আসামি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
মামলায় জাবেদ আহমদের পাশাপাশি তার চাচা গুলজার মিয়া (৪০) ও দাদা সিরাজ মিয়া (৬৬)-কে পলাতক আসামি করা হয়েছে। এজাহারে দাবি করা হয়েছে, সিরাজ মিয়ার বিরুদ্ধে এর আগে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানায় তিনটি মাদক মামলা রয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া গাঁজা থেকে রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য ২০ গ্রাম নমুনা সংগ্রহ করে পৃথকভাবে সিলগালা করা হয়েছে। জব্দ করা আলামত বর্তমানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হেফাজতে রয়েছে।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) এর সারণির ১৯(গ) ও ৪১ ধারায় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর করবে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পড়ুন:‘হ্যালো ডিসি’তে এক মাসে সেবা পেলেন ২০৯১ জন
ইমি/


