শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে পুরোপুরি রাজনীতির প্রভাবমুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটিতে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা থাকতে পারবেন না; বরং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এই কমিটিতে যুক্ত করে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে।
রবিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় নেত্রকোনার দুর্গাপুরে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে মাধ্যমিক পর্যায়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ‘বিদায় সংবর্ধনা-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি, দুর্গাপুর উপজেলা শাখা আড়ম্বরপূর্ণ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বিগত ১৫-২০ বছরের দলীয়করণের অপসংস্কৃতির কড়া সমালোচনা করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, “স্কুলের পরিচালনা কমিটির কাছে কিছু ক্ষমতা থাকে, যা অনেক সময় রাজনৈতিকভাবে অপব্যবহার করা হয়।”
তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যারা রাজনীতি করবেন তাদের জন্য ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড কমিটি রয়েছে, স্কুল পরিচালনার জন্য কোনো রাজনৈতিক নেতার স্থান হবে না। দলীয় নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হলেও তিনি এই সিদ্ধান্তে অনড় থাকবেন বলে দৃঢ়তা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শিশুদের প্রতি সমাজের দায়িত্ববোধ নিয়ে আবেগঘন অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করেন। স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে এক শিশুর শার্টের ছেঁড়া কলার দেখার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, “বাচ্চারা হয়তো মুখে মুচকি হাসি নিয়ে বলে সব ঠিক আছে, বাস্তবে সব ঠিক নেই। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। অন্যের সন্তানকেও নিজের সন্তানের মতো দেখতে হবে। সমাজ ও রাষ্ট্রকে নিজের পরিবারের মতো যত্ন করলেই পূর্বপুরুষদের রক্তে অর্জিত কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।”
শিক্ষকতা পেশার অনন্য মর্যাদার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন শিক্ষক আজীবন শিক্ষক। মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত তারা সমাজের কাছে ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ হিসেবে পরম শ্রদ্ধার পাত্র।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে শিক্ষার প্রসারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নারী শিক্ষায় অবদানের কথা কায়সার কামাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। পাশাপাশি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্র মেরামতের সার্বজনীন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তিনি (তারেক রহমান) সকলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের জন্য প্রতিদিন ১৮-২০ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর সংস্কারমূলক উদ্যোগগুলোকে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে উঠে দেখতে হবে।”
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি দুর্গাপুর উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ.কে.এম ফজলুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা, দুর্গাপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ সাদাত এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. বজলুর রহমান আনছারী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিদায়ী শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও উপহার তুলে দেওয়া হয়। অশ্রুসজল চোখে বিদায় জানানোর মাধ্যমে এক আবেগঘন ও ভাবগম্ভীর পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
পড়ুন:গাইবান্ধায় বিষ দিয়ে ১৭০ হাঁস-মুরগি মারার অভিযোগ প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে
ইমি/


