কক্সবাজারের চকরিয়ায় মানবাধিকারকর্মী, নারী নেত্রী ও নারী উদ্যোক্তা রুনা আক্তার এবং তাঁর কন্যার ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নারী সংগঠনের নেত্রী, নারী উদ্যোক্তা, শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল ৪টায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া নিউ মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন নারী সংগঠন ব্যানারে নারী উদ্যোক্তা ও স্থানীয়দের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারীসহ স্হানীয়রা অংশ নেন।
কর্মসূচির আয়োজন করে কর্মনীড় (সামাজিক মহিলা উন্নয়ন সংস্থা), চকরিয়া উপজেলা মহিলা ক্ষুদ্রশিল্প সমবায় সমিতি, এপেক্স ক্লাব অব অপরূপা ও পিএপিজি চকরিয়া ওয়েব।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রুনা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে চকরিয়া ও কক্সবাজার অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত নারীদের স্বাবলম্বী করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে আসছেন। সামাজিক সংগঠক ও নারী উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ২২ আগস্ট বাড়িতে যাওয়ার পথে চিরিংগা-মাতামুহুরী সেতুর ওপর রুনা আক্তার ও তাঁর কন্যার ওপর সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় রুনা আক্তারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে উপর্যুপরি আঘাত করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, রুনা আক্তার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুর মোহাম্মদ মানিকের সহধর্মিণী। তবে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত একজন নারীর ওপর প্রকাশ্য সড়কে হামলার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
বক্তারা হামলার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং হামলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে রুনা আক্তার ও তাঁর কন্যার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধনে উপস্থিত নারী নেত্রী, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের সদস্যরা বলেন, কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
সমাবেশ থেকে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দ্রুত হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়।
পড়ুন:গাইবান্ধায় বিষ দিয়ে ১৭০ হাঁস-মুরগি মারার অভিযোগ প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে
ইমি/


