সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়কের ১৯ কিলোমিটার এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গায় থাকা প্রায় সাড়ে চার হাজার গাছ কাটার ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে সাচনা বাজার এলাকায় সব ধরনের গাছ কাটা স্থগিত ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।
সোমবার দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়কে গাছ কাটার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা কমিটির সভায় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
গাছ কাটার প্রক্রিয়া, কী ধরনের গাছ কাটা হয়েছে এবং কোন প্রক্রিয়ায় এ কার্যক্রম শুরু হয়েছিল, তা যাচাইয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীলকে আহ্বায়ক করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক।
গাছ কাটা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও বিতর্ক সৃষ্টি হলে রোববার বন বিভাগ, সওজ এবং পরিবেশ আন্দোলনের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক ও ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী স্পষ্ট করেন, ওই এলাকায় সড়ক প্রশস্তকরণের কোনো প্রকল্প বা নির্দেশনা তাদের নেই।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানার পর বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি যৌথ বৈঠক করা হয়। সেখানে সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, সাচনা বাজার এলাকায় গাছ কাটার সঙ্গে সড়ক প্রশস্তকরণের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না। তিনি জানান, সেখানে সওজের কোনো সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প বা পরিকল্পনা নেই।
তিনি বলেন, জেলা কমিটির ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের সভার কার্যবিবরণী পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সাচনা বাজার এলাকায় গাছ কাটার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। সওজ কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে কোনো সুপারিশের কথা অস্বীকার করেছে।
এ কারণে সাচনা বাজার এলাকায় গাছ কাটা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কারা, কোন উদ্দেশ্যে এবং কীভাবে জেলা কমিটির সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে গাছ কাটার উদ্যোগ নিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটিকে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে বিকেলে জেলা বন কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মৌখিক বা লিখিত নির্দেশনা বন বিভাগ প্রতিপালন করবে। গাছ কাটা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বন বিভাগ সেটি অনুসরণ করবে।
সওজ সূত্রে জানা গেছে, সড়ক প্রশস্তকরণের কোনো পরিকল্পনা না থাকলেও সিলেট বন বিভাগ একটি চিঠির মাধ্যমে ৮৪ লাখ ৮০ হাজার টাকায় ৪ হাজার ৪৬৮টি গাছ বিক্রির দরপত্র জারি করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারমূল্যের তুলনায় কম দামে গাছ বিক্রি করে সরকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।
২০০৪ সালে সামাজিক বনায়নের আওতায় সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়কে প্রায় ২০ হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছিল। এসব গাছ কাটার উদ্যোগের প্রতিবাদে শনিবার ‘হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন’-এর ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। পরিবেশকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে বৃক্ষনিধন বন্ধ এবং ঘটনার স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
পড়ুন : পররাষ্ট্রে দুই প্রতিমন্ত্রীর কার্যবণ্টন করলো মন্ত্রণালয়


