বিজ্ঞাপন

অ্যাপে ‘সমাধান’, মাঠে ময়লার স্তূপ—মেয়রের উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাধা কি অসাধু চক্র?

নাগরিক দুর্ভোগ দ্রুত সমাধানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের নেওয়া নতুন উদ্যোগ ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপ। ছবি-ভিডিওসহ অভিযোগ জানানো থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান এবং সমাধানের অগ্রগতি—সবকিছুই দেখা যায় এই অ্যাপে। কিন্তু অভিযোগ নিষ্পত্তির তথ্যের সঙ্গে বাস্তব চিত্রের মিল না থাকায় এবার প্রশ্ন উঠেছে, মেয়রের ভালো উদ্যোগ কি মাঠপর্যায়ের কোনো অসাধু চক্রের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে?

বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ আগ্রাবাদের ছোটপুল খালপাড় বাজার সড়কে হাতে গোনা কয়েকটি ময়লার বিন। প্রয়োজনের তুলনায় বিনের সংখ্যা কম হওয়ায় সেখানে আরও ৬ থেকে ৭টি ময়লার বিন স্থাপনের আবেদন করেন এক নাগরিক। ২১ আগস্ট ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপে ছবি সংযুক্ত করে আবেদনটি করা হয়।

কিন্তু এরপরের ঘটনাই তৈরি করেছে প্রশ্ন।

অ্যাপের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ আগস্ট অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। একই দিনে দেখানো হয়েছে—মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান। এরপর মাত্র একই দিনেই অভিযোগের অবস্থা করা হয়েছে ‘সমাধানকৃত ।

অর্থাৎ অ্যাপের তথ্য বলছে—অভিযোগ গ্রহণ, মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান এবং সমাধান—সবই হয়েছে ২৩ আগস্ট।

কিন্তু বাস্তবে গিয়ে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র।

অ্যাপে অভিযোগটি সমাধান হয়েছে দেখে ঘটনাস্থলে যান আবেদনকারী। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, আগের অবস্থাই রয়েছে। প্রয়োজনীয় ময়লার বিন বাড়ানো হয়নি। বরং বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে রয়েছে বর্জ্য। ময়লার স্তূপও আগের মতোই পড়ে আছে।

অ্যাপে ‘সমাধানকৃত’ দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো পরিবর্তন না দেখে হতবাক আবেদনকারী।

তার প্রশ্ন—মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান যদি সত্যিই হয়ে থাকে, তাহলে সমস্যার সমাধান হলো কোথায়? আর সরেজমিনে পরিস্থিতি যাচাই করা হলে অভিযোগটি ‘সমাধানকৃত’ দেখানো হলো কীভাবে?

শুধু এই একটি অভিযোগ নয়, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে নাগরিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির পুরো প্রক্রিয়াই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। কারণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অভিযোগের প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ে যদি তার প্রতিফলন না থাকে, তাহলে অ্যাপের প্রতি নাগরিকদের আস্থাও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নাগরিক সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যেই গত ১৮ জুলাই চালু করা হয় ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপ। রাস্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশার উপদ্রব, সড়কবাতি, জলাবদ্ধতা, নর্দমা, পাবলিক টয়লেটসহ বিভিন্ন সমস্যা ছবি ও ভিডিওসহ জানাতে পারেন নগরবাসী।

মেয়রের এই উদ্যোগকে নাগরিকবান্ধব পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও মাঠপর্যায়ে দায়িত্বশীলতার ঘাটতি কিংবা ভুল তথ্যের কারণে সেটি প্রশ্নবিদ্ধ হলে এর সুফল থেকে বঞ্চিত হবেন নগরবাসী।

তাই এখন সামনে এসেছে গুরুতর প্রশ্ন—মেয়রের ভালো উদ্যোগ বাস্তবায়নে কি কোনো অসাধু চক্র বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে? নাকি মাঠপর্যায়ে নজরদারি ও জবাবদিহির ঘাটতির কারণেই অ্যাপে ‘সমাধান’ আর বাস্তবে সমস্যার মধ্যে তৈরি হচ্ছে এত বড় ফারাক?

কে অভিযোগটি মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান করেছেন, কীভাবে তা ‘সমাধানকৃত’ হিসেবে চিহ্নিত হলো এবং আবেদন অনুযায়ী ময়লার বিন স্থাপন না করেও কেন সমাধানের তথ্য দেওয়া হলো—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন চায় নগরবাসী।

পড়ুন : আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলা: ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন