নাম আব্দুস সাত্তার। তবে তিনি বালু মহলের কাছে সাত্তার কমিশনার হিসেবে পরিচিত। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ১০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন এই আব্দুস ছাত্তার। সে সুবাধে টাঙ্গাইল এবং সিরাজগঞ্জে তিনি গড়ে তুলেন কোটি কোটি টাকার বিশাল বালুর সিন্ডিকেট। ’২৪-এর আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পরিবর্তনের পর বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে ঢাকার ভাটারা থানায় ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর হত্যা মামলা হয় ছাত্তারের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে আত্মগোপনে থাকার পর ছাত্তার প্রকাশ্যে এসে বিএনপি’র ছত্রছায়ায় পুনরায় বালুর ঘাট দখলে নেয়। বর্তমানে তিনি টাঙ্গাইল এবং সিরাজগঞ্জে বিএনপি’র সহযোগিতায় অবৈধভাবে বালুর ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। বালুমহাল নিয়ে তিন পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে নাগরিক টিভি। আজ রয়েছে এর শেষ পর্ব।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যমুনা সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এর উজান ও ভাটির নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে বালু উত্তোলন এবং ভারী বাল্কহেড চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে প্রশাসনের এই নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা না করে ছাত্তারের সিন্ডিকেট যমুনার বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে।
এদিকে সাত্তারের বিরুদ্ধে কেউ মুুখ খুললেই তাকে নানাভাবে হুমকি দেয়া হয়। স্থানীয় এক সাংবাদিক তার এবং পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে গত ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ডাক যোগে আবেদন পাঠিয়েছেন।

‘বালু সাত্তার’ নামেই নিয়ন্ত্রিত সিন্ডিকেট
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, পুরো বালু সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক হিসেবে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত নাম হাজী ছাত্তার ওরফে ‘বালু সাত্তার’। অভিযোগ রয়েছে, বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজার, বাল্কহেড ও পরিবহন ব্যবস্থার বড় অংশ তার নিয়ন্ত্রণে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের। সম্প্রতি তিনি নিজেকে পৌর মেয়র প্রার্থী হিসেবেও প্রচার চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সাত্তারের রাজনৈতিক অবস্থানও পরিবর্তিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত থাকলেও বর্তমানে আবার বিএনপি’র পরিচয়ে সক্রিয় হয়েছেন তিনি। বালু মহলের এসব টাকা দিয়ে রিসোর্ট এবং একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি গড়ে তুলেছেন।
রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলেও দৌরাত্ম্য কমেনি
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও বালু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কমেনি। ২০২৪ সালের পাঁচ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে আত্মগোপনে চলে যান আওয়ামী লীগের এ নেতা আব্দুস সাত্তার। বালুর ব্যবসার ভাগ দিয়ে জেলা বিএনপির একটি অংশকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে আসেন তিনি।
সরকারি বালুমহালের নামমাত্র ইজারার আড়ালে তারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন। এর ফলে একদিকে যেমন টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিচ্ছে, অন্য দিকে যমুনা সেতু ও রেল সেতুর পিলারগুলো দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক কাঠামোগত ঝুঁকিতে পড়ছে।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিগত সময়ে যমুনা সেতুর পিলার অত্যন্ত শক্তিশালী হওয়ায় বাল্কহেডের ধাক্কার ফলে মূল কাঠামোর বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে বার বার এমন ঘটলে যমুনা সেতু ও রেল সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়তে পারে।

নিষিদ্ধ সীমানায় বেপরোয়া চলাচল ও দুর্ঘটনা
সেতু রক্ষণাবেক্ষণ কর্তৃপক্ষ ও নৌ পুলিশের কঠোর নির্দেশনা অনুযায়ী, যমুনা সেতু ও এর পাশে রেল সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উজান ও ভাটির নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে সব ধরনের বালু উত্তোলন, ড্রেজার স্থাপন এবং ভারী বাল্কহেড চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে প্রশাসনের এই নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ছাত্তারের সিন্ডিকেট প্রতিদিন শত শত বাল্কহেড চলাচল করছে। একই সাথে ড্রেজার বসিয়েও চলছে বালু উত্তোলন। বর্ষার সময় ড্রেজার বসিয়ে চলে বালু উত্তোলন, অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে যমুনা সেতুর চর কেটে মাটি উত্তোলন করা হয়।
সাত্তারের ‘বালু সাম্রাজ্য’
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে এবং স্থানীয় প্রশাসনের একাংশকে ‘ম্যানেজ’ করে আব্দুস সাত্তার যমুনা নদীতে এক বিশাল ‘বালু সাম্রাজ্য’ গড়ে তুলেছেন। সরকার নির্ধারিত দু-একটি বালুমহালের নামমাত্র ইজারার আড়ালে ড্রেজার ব্যবহার করে নদীর তলদেশের বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এই বেপরোয়া বালু উত্তোলনের ফলে প্রতিবছর দুই জেলায় উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সেতুর পিলারের গোড়া থেকে বা তার কাছাকাছি এলাকা থেকে ক্রমাগত বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে এবং তলদেশের মাটির স্থায়িত্ব কমছে। এছাড়া সাত্তারের বাল্কহেডে করে বালু নিয়ে যাওয়া হয় আশপাশের অন্যন্য জেলাগুলোতেও
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বালু উত্তোলনের জন্য নিদিষ্ট দাগ খতিয়ান দেয়া হয়েছে। এর বাইরে বালু উত্তোলনের সুযোগ নেই। ৫টি বালু মহলের মধ্যে ৪টি মহলে আব্দুস সাত্তার ব্যবসা করছে। এক জেলার বালু কিংবা মাটি উত্তোলনের ইজারা দিয়ে অন্য জেলায় পরিচালনা করার বিধান নেই।
মানিকগঞ্জে অধিপত্য ধরে রাখতে গুলি করে হত্যাকাণ্ড
এদিকে চলতি বছরের ৩ এপ্রিল মানিকগঞ্জের শিবালয়ে বালুমহালের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের গোলাগুলিতে একজন নিহত হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়। সিরাজগঞ্জের বালু মহালের ইজারাদার সাত্তারের লোকজন জোরপূর্বক মানিকগঞ্জ তেওতা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মধ্যে ড্রেজার বসান ও জোর করে মাটি কাটার চেষ্টা করেন। এসময় স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দিলে তাদের ওপরে গুলি চালায়। এ সময় মিরাজ ও জাহাঙ্গীর নামে ২ জন গুলিবিদ্ধ হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মিরাজ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করে।
সাত্তারের বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী অন্দোলনে হত্যা মামলা
সাবেক কাউন্সিলর আব্দুস সাত্তার বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর ছিলেন। তিনি সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার ১০নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। ৫ আগস্টের পর তিনি পলাতক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী অন্দোলনের সময় ঢাকার ভাটারা থানায় ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর হত্যা মামলা রয়েছে। সে মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এক নাম্বার আসামী করা হয়। এই মামলায় তিনি ৮৬ নাম্বার আসামী।
আরো হত্যা মামলা
২০১২ সালের ২ সেপ্টেম্বর বালুমহালের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে যমুনা নদীর চরে সাত্তার বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে খুন হন শ্রমিকলীগ নেতা নাসির উদ্দিন এবং তার শ্যালক টিক্কা। এ ঘটনায় আব্দুস সাত্তারকে প্রধান আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ওই সময় ছাত্তারের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে উত্তাল হয়ে ওঠেছিলো পরিবহন শ্রমিকরা। নাসির-টিক্কা হত্যার ঘটনার কিছুদিন পর গ্রেপ্তার হয় ছাত্তার। বেশ কিছুদিন কারাবাসের পর জামিনে মুক্ত হন তিনি। যদিও পরবর্তীতে সমঝোতার মাধ্যমে মামলাটি নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জানা গেছে।
দুদকে মামলা
জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে ২০২৩ সালের মধ্যবর্তী সময়ে আব্দুস সাত্তার ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদক পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন। যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছেন।
সাত্তারের রয়েছে রিসোর্ট ও বিলাসবহুল
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কাদাই নামক স্থানে প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে গড়ে তুলেছেন ফাইভ স্টার মানের ছোয়া রিসোর্ট। এছাড়া নিজ জেলা সিরাজগঞ্জ শহর ও ঢাকায় ৪ থেকে ৫টি বিলাসবহুল বাড়ি ও একশো থেকে দেড়শো বিঘা সম্পত্তি রয়েছে বলে জানা গেছে।
সরকারের আবাদি খাস জমি দখল করে বালুর স্তূপ ও ছোঁয়ামনি ডকইয়ার্ড নির্মাণ
সিরাজগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধের অভ্যন্তরে শতশত বিঘা সরকারের খাস জমি অবৈধভাবে জোরপূর্বক দখল করে বালুর স্তূপ ও ছোঁয়ামনি ডকইয়ার্ড নির্মাণ করেছে আব্দুস সাত্তার। এতে বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবাহ বাঁধাগ্রস্ত হয়ে শহর রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে। প্রভাবশালী এই আওয়ামী লীগ নেতা উপর সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির শীর্ষ বড় একটি অংশের সমর্থন থাকায় কেউ কোন প্রতিবাদ করতে পারছেনা।

হাইড্রোগ্রাফিক বা বাথিমেট্রিক জরিপ করা হয়নি
বালু উত্তোলন ও মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী নদী থেকে বালু উত্তোলনের আগে হাইড্রোগ্রাফিক বা বাথিমেট্রিক জরিপ বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি বছরে হাইড্রোগ্রাফিক বা বাথিমেট্রিক জরিপ করা হয়নি। এছাড়াও বিগত সময়ে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপের রেকর্ড না থাকার অভিযোগ রয়েছে।
বৈষম্য বিরোধী অন্দোলনে হত্যা মামলার আসামী হয়েও ইজারাদার
চলতি বছরের আব্দুস ছাত্তার মেসার্স এস কনস্ট্রাকশনের ইজারাদার হিসেবে বালুর নিলামে অংশ নেয়। ৫টি বালু মহলের মধ্যে ৪টিই আব্দুস ছাত্তার কিনে নেন। বালু মহলের ৫টির ইজারা মূল্যে আসে ২৫ কোটি টাকা। প্রশ্ন উঠেছে, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র অন্দোলনে হত্যা মামলার আসামী হয়ে কিভাবে তিনি বালুর মহলের ইজারা পেয়েছেন।
বৈষম্য বিরোধী অন্দোলনে হত্যা মামলার আসামী হয়েও জেলা আইনশৃঙ্খলার কমিটির সদস্য
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের হত্যা মামলার আসামী হয়েও আব্দুস ছাত্তার সিরাজগঞ্জের জেলা আইনশৃঙ্খলার কমিটির সদস্য হয়েছেন। তিনি নিয়মিত আইনশৃঙ্খলার কমিটিতে অংশ নিচ্ছেন। যার ফলে জেলা জুড়ে সমালোচনা রয়েছে।
জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যপদ মূলত নির্ধারিত হয় পদাধিকার বলে। অথবা মনোনীত ‘বিশিষ্ট নাগরিক’ বা ‘সুশীল সমাজের প্রতিনিধি’ ক্যাটাগরিতে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মনোনীত সদস্যদের অবশ্যই স্বনামধন্য, আইনমান্যকারী এবং সমাজে ইতিবাচক অবদানের জন্য গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হতে হবে। একজন হত্যা মামলার আসামি বা তালিকাভুক্ত অপরাধী আইনি ও নৈতিকভাবে এই যোগ্যতার শর্ত পূরণ করেন না। কিভাবে একজন হত্যা মামলার আসামী আইনশৃঙ্খলার কমিটির সদস্য হলেন। এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে ভূঞাপুরের বিএনপি’র এক নেতা স্বীকার করেছেন আব্দুস ছাত্তারের সাথে বালু ব্যবসায় জড়িত থাকার কথা। ওই বিএনপি’র নেতার মতে ৫ আগস্টের পরে ছাত্তারের সাথে তাদের ব্যবসা। সাত্তারের বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের মামলার পরেও আপনারা কেমন করে তার সাথে ব্যবসা করছেন এমন প্রশ্নে তিনে বলেন, বালুর মূল ব্যবসা হয় সিরাজগঞ্জ থেকে। সিরাজগঞ্জের বিএনপি’র রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের যদি মাথা ব্যথা না থাকে, তাহলে আমাদের তো মাথা ব্যথার কারণ নয়। সিরাজগঞ্জের বিএনপি’র নেতারা তার সাথে পাটর্নার রয়েছে, এখন তো আওয়ামী লীগ নেই। একটি অংশে আমাদের দেয়, অপরপাশে সিরাজগঞ্জের লোকজনরা একটি অংশ নেয়।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. এএসএম সাইফুল্লাহ বলেন, যমুনা সেতুর বালু উত্তোলনের ফলে তার একটি প্রভাব পড়বেই, ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেভাবে বালু উত্তোলন হচ্ছে ওইভাবে বালু উত্তোলনে আমাদের বাংলাদেশে নিয়ম নাই। সেতুর কাছাকাছি বালু উত্তোলেন হলে তা হুমকির মুখে পড়বে। এতে নদীর স্বাভাবিক গতি পরিবর্তন হবেই। পানি প্রবাহ পরিবর্তন হলেই গতি পরিবর্তন হয়। ড্রেজিং এক জিনিস বালু উত্তোলন আরেক জিনিস। বালু উত্তোলন হলে তা গর্ত হয়ে নদীল তলদেশের স্থায়িত্ব নষ্ট করে ফেলে। এর ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাঁধাগ্রস্ত হয়।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুস ছাত্তারের মোবাইল ফোনে ফোন দেয়া হলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে তার বক্তব্য চাওয়া হয়। পরবর্তীতে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, একটি মিটিং রয়েছি, পরে আপনার সাথে কথা বলছি। পরে তার বক্তব্যের জন্য ফোন দেয়া হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
এ প্রসঙ্গে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিরাজগঞ্জের সভাপতি মুনতাসির মেহেদী হাসান বলেন, প্রতিদিন যমুনা সেতু দিয়ে ড্রেজার কিংবা লোড আনলোডের মেশিং যাওয়ার অনুমতি নেই। সেখানে প্রতিদিন সেতুর নিচ দিয়ে ১৮শ’ অধিক যাচ্ছে। প্রশাসক যদি এসব বিষয় না দেখে তাহলে বিষয়টি অন্য রকম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেখেও না দেখার বান করছেন।
তিনি আরো বলেন, একজন হত্যা মামলা আসামী কিভাবে জেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য হলেন। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী এবং বিএনপি’র নেতাদের সাথে প্রোগাম করছেন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) বিভাগীয় সমন্বয়কারী গৌতম চন্দ্র চন্দ বলেন, বাল্কহেড নিয়ে বালু চলাচল নিষিদ্ধ। এর জন্য স্থানীয় প্রশাসনই যথেষ্ট। তারা ইচ্ছে করলে এটি বন্ধ করতে পারে। কিন্ত তারা কিছু সুবিধা নিয়ে এটি চালু করার জন্য অনুমতি দেয়। প্রশাসক প্রদক্ষেপ নিয়ে এগুলো চলাচল বন্ধ হয়ে থাকে।
এ প্রসঙ্গে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, যমুনা সেতুর ৬ কিলোমিটার আশপাশের উজান এবং ভাটিতে কেউ বালুর উত্তোলন করতে পারবেন না। অবৈধ কোন কিছু যাচ্ছে না তা দুই পাশের নৌ পুলিশের দেখার দায়িত্ব। বালুর ঘাটগুলোতে আমরা গিয়ে সর্তক করে এসেছি। তবুও যদি বালু উত্তোলন করে তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নুর নাহার বেগম বলেন, বালু মহল যখন প্রতিষ্ঠা হয়েছিলো, তখন হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ করা হয়েছিলো। বিগত সময়ে হাইড্রোগ্রাফিফ হয়েছে কি না তার নথি চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বছর হাইড্রোগ্রাফিক করা হয়নি। হাইড্রোগ্রাফিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, বালু মহলের আইনে যদি কোন ব্যক্তয় হয়, তাহলে তার ইজারা কার্যক্রম বাতিল হবে। সুপষ্ট অভিযোগ আসলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বৈষম্য বিরোধী অন্দোলনে হত্যা মামলার আসামী হয়েও জেলা আইনশৃঙ্খলার কমিটির সদস্য কিভাবে হলেন এমন প্রশ্নে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ‘কনসান’ নিয়ে আমরা কমিটি করেছি। আপনি উনার সাথে কথা বলেন।
পড়ুন : আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলা: ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল
স/


