বিজ্ঞাপন

মানি এক্সচেঞ্জে ডলার বিক্রির সর্বোচ্চ দর ১২৬ টাকা ৫০ পয়সা

দেশের খোলাবাজারে ডলারের নতুন দর ঘোষণা করেছে মানি চেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমসিএবি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে মানি এক্সচেঞ্জগুলো প্রতি ডলার ১২৫ টাকা ৫০ পয়সায় কিনবে এবং ১২৬ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি করবে। সম্প্রতি খোলাবাজারে ডলারের দাম বেড়ে ১২৮ টাকা পর্যন্ত উঠে যাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি জোরদারের মধ্যে নতুন এ দর ঘোষণা করা হলো।

বিজ্ঞাপন

সোমবার এমসিএবির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি এম এস জামান নতুন ডলারের দর ঘোষণা করেন। এ সময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী গৌতম দে, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এম এস জামান জানান, নতুন নির্ধারিত দর সংগঠনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দেশের সব মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ডলারের বাজারে অনৈতিক কারসাজির জন্য মানি চেঞ্জারদের দায়ী করা ঠিক নয়। তার দাবি, মানি চেঞ্জার খাতের পরিধি সীমিত হওয়ায় এ খাতে বড় ধরনের বাজার ম্যানিপুলেশনের সুযোগ নেই।

ডলার বাজারের অস্থিরতা নিয়ে এমসিএবি সভাপতি বলেন, করোনা-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকের কারণে ডলারের বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে এবং অনেক ব্যাংক এতে বিপুল মুনাফা করেছে। অথচ বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলেই এর দায় মানি চেঞ্জারদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হয়।

তিনি জানান, মানি চেঞ্জাররা মূলত নগদ বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে যুক্ত। তারা ইলেকট্রনিক বা ভার্চ্যুয়াল মুদ্রার লেনদেন করে না এবং সরাসরি রেমিট্যান্সও আনতে পারে না। বিদেশফেরত যাত্রী ও প্রবাসী শ্রমিকদের দেশে নিয়ে আসা নগদ বৈদেশিক মুদ্রাই তাদের ব্যবসার অন্যতম প্রধান উৎস।

এম এস জামান আরও বলেন, প্রবাসীদের আনা নগদ বৈদেশিক মুদ্রা মানি চেঞ্জাররা কিনে বৈধ পথে নিয়ে আসে। এর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখে এ খাত।

ডলারের দর নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা মানি চেঞ্জারদের নেই বলেও দাবি করেন তিনি। তার মতে, দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকই মুদ্রানীতি নির্ধারণ করে এবং আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলার লেনদেন পরিচালনা করে। তবে মানি চেঞ্জারদের জন্য ডলারের দর নির্ধারণ ও লেনদেনের ক্ষেত্রে আরও স্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বৈধভাবে ডলার লেনদেনের সুযোগ বাড়ানো, নীতিমালা সহজ করা এবং অবৈধ মার্কেট বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে লাইসেন্সবিহীন ও অবৈধ মানি চেঞ্জারদের একটি তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

এমসিএবি জানিয়েছে, বাজার নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের লিখিত নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করছেন বৈধ মানি চেঞ্জাররা।

পড়ুন:মোংলা বন্দর ঘিরে বাড়ছে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, কাটেনি নাব্য সংকট

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন