বিজ্ঞাপন

নরসিংদীতে সপ্তাহব্যাপী পুলিশের বিশেষ অভিযান, অস্ত্র, বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২৬৭

নরসিংদীতে এক সপ্তাহ ধরে পুলিশের সমন্বিত বিশেষ অভিযানে ২৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, ভারতীয় চোরাই পণ্য ও অন্যান্য অবৈধ মালামাল জব্দ করেছে জেলা পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে নিয়মিত মামলার আসামি, মাদক কারবারি ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি রয়েছেন।
সপ্তাহব্যাপী পুলিশের সার্বিক তথ্যচিত্র আজ বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তুলে ধরেন পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পুলিশ জানিয়েছেন, গত ১৮ থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানা ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার এবং মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), র‌্যাবসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সমন্বয়ে অভিযানগুলো পরিচালিত হয়।

এ অভিযানে ৮ হাজার ৬৬৩টি ইয়াবা, ২৪৯ দশমিক ৩৫ কেজি গাঁজা, ৪৯ বোতল ফেনসিডিল, ৭ বোতল ইস্কাফ সিরাপ ও ৬ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া তিনটি বিদেশি পিস্তল, একটি এলজি, ১৩ রাউন্ড গুলি/কার্তুজসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়।

পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, অভিযানে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ৯১ হাজার ৩০০ টাকা মূল্যের অবৈধ ভারতীয় শাড়ি, সাবান, তেল, ফেসওয়াশ, ক্রিম, পেট্রোলসহ বিভিন্ন পণ্য এবং একটি কার্গো ভ্যান জব্দ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে জব্দ করা মালামালের আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৬৬ লাখ ১৩ হাজার ৮০০ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এরমাঝে রায়পুরার চরাঞ্চলে বিশেষ অভিযানের উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল রায়পুরার দুর্গম চরাঞ্চলে। উত্তর বাখরনগর, চর আড়ালিয়া, আমিরগঞ্জ ও মেঘনা নদীর দুর্গম চর এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে ২৪৪ কেজি গাঁজা, বিদেশি পিস্তল, এলজি, গুলি/কার্তুজ, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় মাদক ও অস্ত্র সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নরসিংদী জেলা পুলিশ এর আগেও রায়পুরার চরাঞ্চলে অস্ত্র ও মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, গুলি ও হাতবোমা উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল।

এ বিশেষ অভিযানে মনোহরদী উপজেলায় কাঁটাবাদী গ্রামে যুবক হত্যার ঘটনায় ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহতের বাবা আতাউর রহমান মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই অভিযানে হত্যায় ব্যবহৃত একটি কুড়ালও উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পয়েন্টে বিশেষ চেকপোস্ট পরিচালনা করে ১ হাজার ৮৬৬টি যানবাহন তল্লাশি করা হয়। এ সময় ৩০টি মোটরসাইকেলসহ ৩০টি যানবাহন-সংক্রান্ত মামলা করা হয়েছে এবং জরিমানা আদায় করা হয়েছে ৯ লাখ ৬২ হাজার টাকা।

পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, অবৈধ অস্ত্র, মাদক, চোরাচালান ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আরও সমন্বিত অভিযান চালানো হবে।

পড়ুন:কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ

ইমি/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন