বিজ্ঞাপন

ইলিয়াস কাঞ্চনের মৃত্যুসংবাদ! তীব্র প্রতিবাদ নিসচার

যাচাই ছাড়া মৃত্যুর মতো স্পর্শকাতর সংবাদ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার কোন সুস্থ বিবেকবান মানুষের অপকর্ম ছাড়া আর কিছুই না। তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা সহকারে নিসচার কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ ১২০টি শাখার সড়কযোদ্ধারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রতিকার চেয়েছেন।

উল্লেখ্য নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব, কিংবদন্তী অভিনেতা ও সমাজকর্মী ইলিয়াস কাঞ্চনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর মৃত্যুসংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ সারাদেশের প্রায় ১২০টি শাখার সড়কযোদ্ধারা। লন্ডনে চিকিৎসাধীন মহানায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন সুস্থ ও ভালো আছেন। অথচ তাঁকে নিয়ে মৃত্যুর মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো ধরনের যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই সংবাদ ছড়িয়ে পড়ায় নিসচার নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নিসচার নেতৃবৃন্দ প্রশ্ন তুলেছেন, একজন জীবিত মানুষকে কীভাবে যাচাই ছাড়া মৃত ঘোষণা করে সংবাদ প্রকাশ করা সম্ভব? এটি শুধু দায়িত্বহীনতা নয়, একজন মানুষের পরিবার, স্বজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসা থাকা লাখো মানুষের অনুভূতির প্রতি নির্মম আঘাত।

তারা বলেন, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই সাংবাদিকতার অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। বিশেষ করে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট পরিবার, নিকটজন, প্রতিষ্ঠান বা নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া অপরিহার্য। অথচ ইলিয়াস কাঞ্চনের ক্ষেত্রে সেই ন্যূনতম দায়িত্বও পালন করা হয়নি।

নিসচার পক্ষ থেকে মহাসচিব জনাব লিটন এরশাদ বলেন, ‘সবার আগে সংবাদ’ দেওয়ার প্রতিযোগিতা কখনোই সত্য ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার বিকল্প হতে পারে না। একটি সংবাদ দ্রুত প্রকাশ করার চেয়ে সংবাদটি সত্য কি না, সেটি নিশ্চিত করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মৃত্যু, দুর্ঘটনা কিংবা অসুস্থতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো ধরনের অনুমাননির্ভর বা যাচাইহীন তথ্য প্রকাশ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, ইলিয়াস কাঞ্চন শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেতা নন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের সড়ক নিরাপত্তা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তাঁর সঙ্গে দেশের অসংখ্য মানুষের আবেগ ও ভালোবাসা জড়িয়ে রয়েছে। ফলে তাঁকে নিয়ে মিথ্যা মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তের মধ্যে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ তৈরি করতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পড়তে কয়েক মিনিট সময় লাগে, কিন্তু সেটি যে কত মানুষের মনে আঘাত করতে পারে, তার দায় কে নেবে? কোনো ব্যক্তির মৃত্যু নিয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে পরে সেটি ভুল ছিল বলে জানিয়ে দিলেই সৃষ্ট মানসিক কষ্ট বা আতঙ্কের ক্ষত পূরণ হয় না।

ইলিয়াস কাঞ্চনকে নিয়ে এ ধরনের অসত্য ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারের ঘটনায় নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ সারাদেশের প্রায় ১২০টি শাখার নেতাকর্মীরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেন, একজন জীবিত মানুষের মৃত্যুসংবাদ প্রচার করা কোনোভাবেই নিছক ভুল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে চরম দায়িত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই ছাড়া এমন সংবাদ শেয়ার করাও সমানভাবে অনৈতিক ও ক্ষতিকর।

নিসচার পক্ষ থেকে দেশবাসী ও ইলিয়াস কাঞ্চনের শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া কোনো মৃত্যুসংবাদে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। কোনো তথ্য দেখলেই তা শেয়ার না করে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে সত্যতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, ইলিয়াস কাঞ্চন আমাদের মাঝে আছেন। তাঁকে নিয়ে কোনো ধরনের গুজব বা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পড়লে তাতে কান না দিয়ে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

একই সঙ্গে ইলিয়াস কাঞ্চনকে নিয়ে মিথ্যা মৃত্যুসংবাদ প্রথম কোথা থেকে ছড়ানো হয়েছে, তা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে নিসচা। নেতৃবৃন্দ বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য তৈরি ও প্রচারের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা উচিত। প্রচলিত আইনে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

সবশেষে ইলিয়াস কাঞ্চনের সুস্থতা, দীর্ঘায়ু ও সুন্দর জীবনের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করে নিসচার নেতৃবৃন্দ বলেন, মিথ্যা নয়, যাচাই করা সত্য তথ্যই হোক সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিত্তি।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ইলিয়াস কাঞ্চনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন