চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন জিইসি মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারদের মধ্যে পটিয়ার মনজুরুল ইসলাম ওরফে দাড়ি মঞ্জু (৫৩) এবং তার সহযোগী নাজিম উদ্দিন (২৯) রয়েছেন।
রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাঁচলাইশ থানাধীন জিইসি মোড়ের মেজ্জান হাইলে আইয়্যূন রেস্তোরাঁর সামনে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশের একটি দল। এ সময় পালানোর চেষ্টা করলে একটি প্রাইভেটকারসহ দুইজনকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার নাজিম উদ্দিন পাবনার বেড়া থানার বাসিন্দা। অপরজন মনজুরুল ইসলাম চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার বাসিন্দা। স্থানীয়ভাবে মনজুরুল ইসলাম দাড়ি মঞ্জু নামে পরিচিত বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, আটকের পর নাজিম উদ্দিনের হেফাজতে থাকা প্রাইভেটকারের ড্রাইভিং সিটের পাশের একটি কালো কাঁধব্যাগে তল্লাশি চালানো হয়। ব্যাগটির ভেতরে বিশেষ কায়দায় সেলাই করা অবস্থায় স্কচটেপে মোড়ানো একটি স্বচ্ছ বায়ুরোধক পলিপ্যাকেট পাওয়া যায়। পরে প্যাকেটটি থেকে ১ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার মোট ওজন ১৬০ গ্রাম।
এ সময় ইয়াবা বহনে ব্যবহৃত চট্টগ্রাম মেট্রো-ঘ-১১-৪১৯১ নম্বরের একটি প্রাইভেটকার ও কালো কাঁধব্যাগ জব্দ করা হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রেপ্তাররা পরস্পর যোগসাজশে প্রাইভেটকারটি ব্যবহার করে স্থানীয়ভাবে কম দামে ইয়াবা কিনে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিলেন।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুইজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সূত্রের দাবি, মনজুরুল ইসলাম ওরফে দাড়ি মঞ্জুর বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। একই সূত্রের দাবি, পটিয়ার পাহাড়ি এলাকায় দাড়ি মঞ্জু গোপনে অস্ত্র তৈরির কারখানা গড়ে তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
অন্যদিকে, স্থানীয় একটি সূত্র নাজিম উদ্দিনকে ছাত্র আন্দোলনের সময় প্রকাশ্যে গুলি চালানোর অভিযোগে আলোচিত যুবলীগ নেতা লিটন বড়ুয়ার প্রধান সহযোগী ও গাড়িচালক হিসেবে দাবি করেছে। তবে এ দাবিরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন ভূইয়া জানান, ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তাদের রিমান্ডে এনে অস্ত্র থাকার বিষয়টি তদন্ত করা হবে।
পড়ুন: নেত্রকোনায় জমি নিয়ে বিরোধ: সালিশ শেষে যুবকের মৃত্যু
ইমি/


