বাগেরহাটের ফকিরহাটে এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, নির্যাতন, আগের সংসার ভাঙতে প্ররোচনা, তিনবার গর্ভপাত করানো, জমির দলিল নিয়ে ব্যাংকঋণ গ্রহণ এবং ধর্ম পরিবর্তন করে বিয়ের পর ২৫ লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। ন্যায়বিচার ও স্ত্রীর স্বীকৃতি না পেলে আত্মহত্যার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) ফকিরহাটে একটি সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন মারিয়া বেগম একতা (৩২)। অভিযুক্ত দেবাশীষ বসু (অটল) ওরফে মুহাম্মদ আলী ফকিরহাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাঠালতলা কাজী আজাহার আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বলে জানান তিনি।
লিখিত বক্তব্যে মারিয়া বেগম দাবি করেন, তিনি প্রথম স্বামী শের আলী ও দুই সন্তানকে নিয়ে আট্টাকী ঘোষপাড়ায় বসবাস করতেন। কয়েক বছর আগে দেবাশীষ বসু ব্যবসার উদ্দেশ্যে তাদের একটি ঘর ভাড়া নেন। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় তাকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে দেবাশীষ তাকে ধর্ষণ করেন এবং বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেন বলে দাবি করেন মারিয়া।
তার ভাষ্য, এরপর বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে এবং হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে তাকে প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রলোভনে রাখা হয়। ওই সময়ের মধ্যে দেবাশীষের প্ররোচনায় তিনি প্রথম স্বামীকে ডিভোর্স দিতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ করেন। একই সময়ে তাকে দিয়ে তিনবার গর্ভপাত করানো হয় এবং তার জমির দলিল নিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ তোলা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
মারিয়া বলেন, পরবর্তী সময়ে দেবাশীষ আদালতের এফিডেভিট ও কালেমা পাঠের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ‘মুহাম্মদ আলী’ নাম নেন। পরে তাকে রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করেন। তবে বিয়ের পর তার আচরণ পরিবর্তন হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন মারিয়া।
তিনি বলেন, “বিয়ের পর সে আমাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিচ্ছে না। জমি বিক্রি করে ২৫ লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। টাকা না দিলে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দেবে না বলে হুমকি দিচ্ছে।” আইনি ব্যবস্থা নিলে তাকে ও তার দুই সন্তানকে গুম করে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মারিয়া বলেন, “আমি শুধু স্ত্রীর স্বীকৃতি চাই এবং স্বামীর সঙ্গে স্বাভাবিক সংসার করতে চাই। ন্যায়বিচার না পেলে আমার বেঁচে থাকার কোনো পথ থাকবে না।”
তিনি নিজের ও সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযোগের তদন্ত এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক দেবাশীষ বসুর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পড়ুন:তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হচ্ছে: আমান উল্লাহ আমান
ইমি/


