বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর সোনারচর। পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলা সীমান্তে অবস্থিত এ চরের।
সোনারচর সৈকতে আকস্মিকভাবে ভেসে এসেছে বিপুল পরিমাণ মদের খালি বোতল, ছেঁড়া জাল ও সামুদ্রিক কাছিম, জোয়ারে এসব বর্জ্য তীরে এসে জমেছে বলে জানিয়েছেন সামুদ্রিক জেলেরা। তবে এত বিপুল পরিমাণ বর্জ্য কোথা থেকে এলো তা কেউ আবিস্কার করতে পারেনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়,সৈকতর শুধু মদের বোতলই না, সাগরের পানির সাথে ভেসে আসছে মদ, ফেনসিডিলের অসংখ্য পরিত্যক্ত খালি বোতল, প্লাস্টিকের বোতল, ময়লা আবর্জনাসহ নানা প্রকার পরিত্যক্ত জিনিস। প্রত্যক্ষদর্শী জানান,এর আগে সাগর পাড়ে এসব পরিত্যক্ত খালি বোতল, ময়লা আবর্জনা ছিল না।
বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার করা অনেক জেলে ট্রলার সোনারচরে নোঙর করে থাকে। মাছ ধরার এক ট্রলারের জেলে শহিদ সরদার জানান, ‘গত কয়েকদিন যাবত জোয়ারের সাথে সোনারচরে খালি বোতল ভেসে আসতে আছে। আসতে আসতে অনেক বোতল জমা হইছে। কিন্তু কোথা থেকে আসে বা কীভাবে আসে আমরা কিছুই বলতে পারি না। পরে আমি অনেক খালি বোতল এক জায়গায় জমা করছি। কিন্তু কোথা থেকে এই খালি বোতল আসে জানি না।’
রাঙ্গাবালীর ট্যুরিস্ট নিরাপত্তা কমিটি সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান জানান, ‘হঠাৎ করে সোনারচর সৈকতে এত মদের বোতল কোথা থেকে ভেসে আসছে জানিনা। এসব বর্জ্য দেখে আমরাও হতবাক। তবে সাগরে অবস্থান করা বড় জাহাজে অবস্থানকারী অনেকেই মদের বোতলসহ অন্যান্য ব্যবহার্য পণ্যগুলোও অনেক সময় সমুদ্রে নিক্ষেপ করেন। তবে সমুদ্র বাঁচাতে হলে আমাদের এখন সমুদ্র কমিশন গঠন করে সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা উচিত।’
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ এন্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘সোনারচর সৈকতে বিপুল পরিমাণ মদের বোতল, প্লাস্টিক, ছেঁড়া জাল ও অন্যান্য বর্জ্য ভেসে আসা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এগুলো শুধু সৈকতের সৌন্দর্য নষ্ট করছে না, সামুদ্রিক কাছিম, মাছ, পাখিসহ পুরো উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের জন্যও বড় হুমকি। বিশেষ করে পরিত্যক্ত জালে সামুদ্রিক প্রাণী আটকে মারা যেতে পারে এবং প্লাস্টিক দীর্ঘদিন সমুদ্রে থেকে ভেঙে মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়ে খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করতে পারে।
তিনি আরও বলেন,তবে কোনো ধরনের বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান ছাড়া এসব বর্জ্য সরাসরি জাহাজ থেকেই এসেছে-এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক হবে না। সমুদ্রস্রোত ও জোয়ারের মাধ্যমে দূরবর্তী এলাকা, মাছ ধরার নৌযান, উপকূলীয় জনপদ কিংবা আন্তর্জাতিক নৌপথ থেকেও বর্জ্য এখানে এসে জমতে পারে। তাই বোতলের লেবেল, উৎপাদনের দেশ, ব্যাচ নম্বর ও বর্জ্যের ধরন বিশ্লেষণ করে উৎস শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
একই সঙ্গে সোনারচরসহ গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় এলাকায় নিয়মিত ‘মেরিন লিটার মনিটরিং’, সৈকত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং জাহাজ ও মাছ ধরার নৌযান থেকে সমুদ্রে বর্জ্য নিক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি জরুরি। সমুদ্রকে বর্জ্যের ভাগাড় হিসেবে ব্যবহার করলে তার ক্ষতি শেষ পর্যন্ত আমাদের মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, খাদ্যনিরাপত্তা ও উপকূলীয় অর্থনীতির ওপরই ফিরে আসবে।’
পড়ুন : এপিএম টার্মিনালসের ৭৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে চেম্বারের স্বাগত


