নেত্রকোনার কলমাকান্দায় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ভাঙচুরের পরিকল্পনা, উসকানিমূলক স্লোগান এবং গাছের চারা উপড়ে ফেলে নাশকতা সৃষ্টির অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের ৩৩ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
মামলার আসামিবৃন্দ ও পুলিশের পদক্ষেপ
মামলায় যে ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- কলমাকান্দা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সদস্য মো. হযরত আলী (২৬), খারনৈ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মামুন (২৫), মো. এরশাদুর রহমান ওরফে মিন্টু (৪৫), সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে চয়ন (৪০), মো. গোলাম হোসেন মেম্বার (৪৪), অঞ্জন সরকার ওরফে বাবন (৫০), মিজানুর রহমান সেলিম (সাংগঠনিক সম্পাদক, উপজেলা আওয়ামী লীগ) এবং মুন্না হাসান (সহ-সভাপতি, কলমাকান্দা সরকারি কলেজ শাখা)।
রবিবার (৩০শে আগস্ট) রাতে ১১টার দিকে মামলার বাদী কলমাকান্দা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল মান্নান এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এরআগে, গত ২৯ আগস্ট কলমাকান্দা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং পেনাল কোডের বিভিন্ন ধারায় ২৮ নম্বর মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ আগস্ট রাত আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিট থেকে ১১টা ৪০ মিনিটের মধ্যে কলমাকান্দা থানাধীন পোগলা ইউনিয়নের হীরাকান্দা বাজারে আসামিরা একত্রিত হয়ে মিছিল বের করে। মিছিল শুরুর আগে তারা শেখ হাসিনার নামে শপথ গ্রহণ করে এবং বিভিন্ন উসকানিমূলক স্লোগান দেয়। তারা প্রকাশ্যে ঘোষণা দেয়, “জননেত্রী শেখ হাসিনার আমরা মুসলমান হিসাবে, আমরা আওয়ামী লীগের কর্মী হিসাবে অনুরূপভাবে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বিশ্বাস করি…”। উসকানিমূলক এসব স্লোগান ও জমায়েতের কারণে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকটকে কাজে লাগিয়ে সরকারকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে আসামিরা কলমাকান্দা-ঠাকুরকোনা রোডে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে কলমাকান্দা বাজারের দিকে অগ্রসর হয়ে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ভাঙচুরের পরিকল্পনা করেছিল। তবে ভোরের দিকে ফজরের নামাজ পড়ার জন্য এলাকার মুসল্লিরা রাস্তায় বের হতে শুরু করলে আসামিরা তাদের ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়। সেখান থেকে চলে যাওয়ার সময় ২৫ আগস্ট রাত ১২টা ৩০ মিনিট থেকে ভোর ৪টা ২০ মিনিটের মধ্যে কলমাকান্দা-ঠাকুরকোনা হাইওয়ে রোডের পূর্ব পাশে বাবনী এলাকায় ১২টি মেহগনি গাছের চারা রাতের অন্ধকারে উপড়ে ফেলে তারা। এই চারাগুলো কলমাকান্দা যুবদল রোপণ করেছিল।
২৫ আগস্ট সকালে বাবনী এলাকার লোকজন পুলিশকে খবর দিলে টহলরত পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরবর্তীতে আসামিদের শনাক্ত করে ২৯ আগস্ট কলমাকান্দা থানায় ২০০৯ সালের সন্ত্রাস বিরোধী আইনের বিভিন্ন ধারা, তৎসহ ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং পেনাল কোডের একটি ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়।
মামলার বাদী এসআই জানান, এটি সরকার বাদী মামলা। এখন পর্যন্ত এ মামলায় কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
পড়ুন : আগস্টের ২৯ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৩২ হাজার কোটি টাকার বেশি


