বিজ্ঞাপন

অস্ত্র-মাদককে ব্যবসা হিসেবে বেছে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন ধ্বংস করা হয়েছিল: হাবিবুর রশিদ

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, বিগত সময়ে একটি গোষ্ঠী নারায়ণগঞ্জে মাদক ও অস্ত্রের ব্যবসাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিল। তাদের কারণে নারায়ণগঞ্জ দীর্ঘদিন সন্ত্রাসীদের অভয়অরণ্য হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ফ্যাসিষ্টরা বিগত ১৫ বছর নারায়ণগঞ্জকে অস্ত্র, মাদক ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে যে, সারাদেশের মানুষ নারায়ণগঞ্জকে সন্ত্রাসীদের অভয়অরণ্য হিসেবে চিনত। তারা প্রশাসনকেও ধ্বংস করে দিয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন পরিচয়ে ওই গোষ্ঠীর কেউ কেউ আবারও দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে। পুলিশ প্রশাসনের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে হাবিবুর রশিদ বলেন, মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যাতে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে আসতে না পারে, সে জন্য আইন আরও কঠোর করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, মাদকের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত কাউকেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে অতীতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনাগুলো তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং দীর্ঘদিন ধরে নবায়ন না হওয়া অস্ত্রের লাইসেন্স যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নারায়ণগঞ্জকে মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও সুন্দর জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। যেসব এলাকায় স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা সীমিত, সেখানে র‌্যাব, বিজিবি, ডিবি ও পুলিশের সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করে মাদক সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য নারায়ণগঞ্জকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করে নিরাপদ এবং উন্নত একটি জেলা হিসেবে গড়ে তোলা। গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধানেও সরকার ইতোমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সময় ও ধারাবাহিকতা প্রয়োজন।

জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ সভায় জেলার সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি পুলিশ সুপার, বিজিবি, র‌্যাব, কোস্টগার্ড, সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, আইনজীবী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি মাদক ও সন্ত্রাস দমন, যানবাহন ও সড়ক নিরাপত্তা, শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি, জননিরাপত্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয় এবং প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণের বিষয়েও মতামত নেওয়া হয়।

পড়ুন : শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা: আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন