বিজ্ঞাপন

কালিয়াকৈরে হাটে মাছ কাটার জমজমাট ব্যবসা, বঁটি চালিয়ে দিনে আয় হাজার টাকা

ফজরের আজান শেষ না হতেই গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার বাসস্ট্যান্ড, দোকানপাড়া, সফিপুর, মৌচাক ও বেনুপুর বাজারে শুরু হয় কর্মব্যস্ততা। 

বিজ্ঞাপন

মাছের আঁশ, পানি ও রক্তে ভেজা জায়গায় সকাল থেকেই শোনা যায় বঁটির ঝনঝন শব্দ। ক্রেতাদের মাছ কেটে দেওয়ার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন শতাধিক যুবক।

সময়ের চাহিদায় কালিয়াকৈরের বিভিন্ন হাট-বাজারে গড়ে উঠেছে মাছ কাটার সার্ভিস। 

স্থানীয়দের মতে, উপজেলার বিভিন্ন বাজারে দেড় শতাধিক মানুষ এ কাজের সঙ্গে জড়িত। প্রতি কেজি মাছ কাটতে নেওয়া হয় ২০ টাকা। পাঁচ কেজি মাছ একসঙ্গে কাটলে ১০০ টাকা এবং বড় মাছের ক্ষেত্রে আকার অনুযায়ী পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হয়।

সফিপুর বাজারের শ্রমিক রুবেল মিয়া (৩৫) বলেন, “সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কাজ করি। ভালো দিনে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা আয় হয়। এই আয় দিয়েই সংসার, ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা ও ঘরভাড়ার খরচ চালাই।”

দোকানপাড়ার সোহেল রানা এইচএসসি পাস করেছেন। চাকরি না পেয়ে দুই বছর ধরে মাছ কাটছেন। তিনি বলেন, “বাবা রিকশা চালান। বৃষ্টি-রোদ উপেক্ষা করে কাজ করি। হাতে কাটাছেঁড়া হলেও পেটের দায়ে আবার কাজে ফিরতে হয়।”

সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী রাকিব (১৯) বলেন, “পড়াশোনার খরচ চালাতেই অবসর সময়ে মাছ কাটার কাজ করি।”

ক্রেতা আয়েশা আক্তার বলেন, “অফিসের ব্যস্ততায় বাসায় মাছ কাটার সময় হয় না। ২০ টাকা দিলে মাছ কেটে পরিষ্কার করে দেয়। এতে সময় ও ঝামেলা দুটোই কমে।”

মাছ বিক্রেতা আব্দুল কাদের বলেন, “এই সার্ভিস চালুর পর আমার মাছ বিক্রি প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। মানুষ এখন বড় মাছ কিনতেও আগ্রহী।”

কালিয়াকৈর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, “মাছ কাটার এই সেবা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে ক্রেতারা উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। তবে মাছ কাটার স্থান, বঁটি ও ছুরি পরিষ্কার রাখা এবং মাছের বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা জরুরি।”

শ্রমিক নেতা বাবুল হোসেন বলেন, “রোদ-বৃষ্টিতে কাজ করতে হয়। বঁটির কোপে হাতও কাটে। 

পৌরসভা যদি একটি টিনের শেড ও পানির ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে আমরা নিরাপদে কাজ করতে পারব।”

বাজারের এক মাছ ব্যবসায়ী বলেন, “মাছ কাটার সেবা এখন বাজারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।

পড়ুন:রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নোবিপ্রবি উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন