আলমগীর হোসেন জীবন জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ছিলেন বিদেশ। প্রায় দেড় পূর্বে দেশে এসেছে। পেশায় সে একজন নির্মাণ শ্রমিক। সে ইউটিউবে একটি ভিডিও দেখে, ইটের পরিবর্তে পনির বোতল দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করার পদ্ধতি খুজে পাই। ইউটিউবের ভিডিও দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে পানির বোতল দিয়ে একটি বাড়ি নির্মাণের চিন্তা করেন।
গত ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে বিভিন্ন দোকান থেকে বোতল সংগ্রহ শুরু করে আলমগীর। বেশ কয়েক মাস চেষ্টা পর সংগ্রহ করে ফেলেন প্রায় ২৫ হাজার পানির খালি বোতল। ২০২৪ সালের মাঝামাঝিতে হাত দেন বাড়ি নির্মাণকাজে। এই বোতল বাড়ি নির্মাণে তার খরচ হয় প্রায় ১৩ হাজার টাকা।
আলমগীর হোসেন গনমাধ্যমকে জানান, এই প্লাস্টিক বোতল দিয়ে নির্মিত বাড়িটিতে দুই কক্ষ বিশিষ্ঠ। শুরুতে সিমেন্টের পিলার দিয়ে অবকাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর প¬াস্টিকের বোতলে বালু ও মাটি ভর্তি করে সিমেন্ট দিয়ে দেয়ালের গাঁথুনি করা হয়। বাড়ির ছাঁদ দেওয়া হয়েছে ঢেউ টিন দিয়ে। এই বাড়িটি নির্মাণ করতে সময় লেগেছে প্রায় দুই মাস।
ওই নির্মাণ মিস্ত্রী বলেন, বাড়ি নির্মাণে সিমেন্ট, বালু, কাঠ, বোতল ও মিস্ত্রির বেতন মিলিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। তবে শুধু ইট-সিমেন্ট দিয়ে বাড়ি তৈরি করতে খরচ হতো প্রায় ৫-৬ লাখ টাকা।
শুক্রবার উপজেলার সরনজাই ইউনিয়নের মধ্য ভাগনা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, আলমগীর হোসেনের বোতলবাড়ির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। বাড়িটির বাইরের দেয়ালে কোমলপানীয়ের বোতলের পেছনের অংশ আর ঘরের ভেতরের অংশে বোতলের মুখের অংশ রয়েছে। এ সময় বাড়িটি দেখার জন্য প্রায় উৎসুক জনতাদের ভিড় জমায়েত হয়।
প্রতিনিয়ত বোতলবাড়ি দেখতে পর্যটকরা বলেন, বাড়িটির কথা তারা বেশ কিছুদিন পূর্বে শুনেছে। সময়ের কারনে দেখতে আসা হয়নি। প্লাস্টিককের বোতল দিয়ে অভিনব কায়দায় তৈরি বাড়িটি দেখে তাদের ভালো লেগেছে। এটা একটি ব্যতিক্রম উপদানের নির্মিত বসবাস যোগ্য বাড়ি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাঈমা খান বলেন, পানির বোতল দিয় বাড়ি নির্মাণ এক অন্য রকম অনুভুতি। প্লাস্টিক বোতল যত্রতত্র না ফেলে কাজে লাগানো হয়েছে। এই সিদ্ধন্তটা প্রশংসার দাবিদার।
পড়ুন : নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে কেরানীগঞ্জে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান


