নেত্রকোনা খালিয়াজুরী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে মাদকের ভয়াল বিস্তার রোধে এবার সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তরুণ ও নতুন প্রজন্মকে মাদকের মরণ ছোবল থেকে রক্ষা করতে এবং মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নের ফতুয়া গ্রামে এক মাদকবিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার বিকেলে ফতুয়া গ্রামের ঈদগাহ মাঠে স্থানীয় সচেতন মহলের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি, তরুণ-যুবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
সভায় বক্তারা বলেন, মাদকের আগ্রাসনের কারণে পরিবার ও সমাজে অপরাধ, অস্থিরতা এবং চরম সামাজিক অবক্ষয় দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজের একটি বড় অংশ মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ায় অভিভাবকসহ সচেতন নাগরিকদের মাঝে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; বরং মাদকের বিরুদ্ধে পরিবার ও সমাজকে সম্মিলিতভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চাকুয়া ইউনিয়নের লেপসিয়া, হাতিলা, বল্লী, ফতুয়া ও রানীচাপুরসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামে সাম্প্রতিক সময়ে মাদকের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা হলেও কার্যকর কোনো সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি। পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় এবং ফতুয়া গ্রামকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয়ে এলাকাবাসী এই সভার আয়োজন করেন।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা, তরুণ ও যুবকদের মধ্যে মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং মাদক ও এর কারবারিদের সংক্রান্ত যেকোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দ্রুত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা।
সভায় নিজের ক্ষোভ ও দৃঢ়তা প্রকাশ করে ফতুয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “গ্রামে কয়েকজন মাদকের ডিলার রয়েছে বলে বিভিন্ন জায়গায় আলোচনা হয়। বিষয়টি নিয়ে একজন সাধারণ গ্রামবাসী হিসেবে নিজেকে অসহায় মনে হয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাই আজ গ্রামের সবাই মিলে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কেউ মাদক ব্যবসা বা সেবনের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকে সামাজিকভাবে বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তাদের গ্রামের কোনো সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগও দেওয়া হবে না। মাদক ব্যবসা বা সেবনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে আমরা সম্মিলিতভাবে পুলিশকে জানাব।”
এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল। তারা মনে করেন, প্রতিটি গ্রাম থেকে এভাবে সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠলে দ্রুতই খালিয়াজুরী উপজেলা মাদকের করাল গ্রাস থেকে মুক্তি পাবে।
পড়ুন:রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নোবিপ্রবি উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎ
ইমি/


