চট্টগ্রামের পটিয়ায় ছাত্রদলের সাবেক এক নেতার বিরুদ্ধে আশিউর্ধ্ব এক বৃদ্ধাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম এবং তাঁর নাতনিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বৃদ্ধার গলার প্রায় ৯ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে উপজেলার হাইদগাঁও ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গর্জনীয়া পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত আজীম উদ্দীন হাইদগাঁও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি এবং বর্তমানে যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
আহতরা হলেন মছুদা বেগম (৮০) ও তাঁর নাতনি রুবি আকতার (৩৬)। এ ঘটনায় রুবি আকতার পটিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালে রুবি আকতার অভিযুক্ত আজীম উদ্দীনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। প্রায় এক মাস আগেও বাড়িতে এসে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তাঁর।
রুবি আকতারের অভিযোগ, ওই বিরোধের জের ধরে সোমবার সকালে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার সময় তাঁর চিৎকার শুনে নানি মছুদা বেগম এগিয়ে এলে তাঁকেও লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তিনি রক্তাক্ত জখম হন।
এ সময় মছুদা বেগমের গলায় থাকা প্রায় ৯ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। চেইনটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
পরে স্থানীয়রা আহত মছুদা বেগম ও রুবি আকতারকে উদ্ধার করে পটিয়া হাসপাতালে নিয়ে যান।
রুবি আকতার বলেন, অভিযুক্তরা হামলা চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি। হাসপাতালে গিয়েও চিকিৎসককে মেডিকেল সনদ না দেওয়ার জন্য শাসানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এছাড়া তাঁকে ও তাঁর নানিকে হত্যার চেষ্টা এবং তাঁর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আজীম উদ্দীন বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন। এ কারণে স্থানীয় অনেকেই ভয়ে মুখ খুলতে চান না।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আজীম উদ্দীন। তিনি বলেন, রুবি আকতারের কাছে মাটি ভরাট বাবদ তাঁর কিছু টাকা পাওনা রয়েছে। টাকা চাইতে গেলে রুবি আকতার তাঁর পার্টনারসহ দুজনকে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ধস্তাধস্তির সময় মছুদা বেগম আঘাতপ্রাপ্ত হন বলে দাবি করেন তিনি।
আজীম উদ্দীন আরও বলেন, আহতরা পরে নিজেরাই হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা হামলা ও স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ সত্য নয়।
এ বিষয়ে পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পড়ুন: সারাদেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু
আর/


