বিজ্ঞাপন

নদীপথে রাজবাড়ী মন্দিরে নেওয়া হচ্ছে শ্রী শ্রী শান্তজীউ-বিগ্রহ

২৭৪ বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও হাজারো ভক্তের অংশগ্রহণে দিনাজপুরের কান্তনগর মন্দির থেকে নদীপথে রাজবাড়ী মন্দিরে আনা হচ্ছে শ্রী শ্রী কান্তজীউ বিগ্রহ। ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই যাত্রাপথে ঢেপা নদীর দুই তীরে ভক্তরা ফল-ফলাদি উৎসর্গ করে প্রার্থনা ও মঙ্গলকামনা করেছেন।

বিজ্ঞাপন

বুধবার সকাল ৮টায় কাহারোল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কান্তনগর মন্দির থেকে পূজা-অর্চনা ও কীর্তনের মধ্য দিয়ে নদীপথে যাত্রা শুরু করে শ্রী শ্রী কান্তজীউ বিগ্রহ, অর্থাৎ রাধা-কৃষ্ণ প্রতিমা। প্রায় ১৮টি নৌকার বহর নিয়ে ২৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয় বিগ্রহ বহনকারী নৌযান। যাত্রাপথজুড়ে ঢেপা নদীর দুই তীরে হাজার হাজার নারী-পুরুষ ভক্ত ফল-ফলাদি উৎসর্গ করে কান্তজীউকে বরণ করে নেন। প্রসাদ গ্রহণের মাধ্যমে তারা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক মঙ্গল কামনা করেন।

প্রায় আট ঘণ্টার যাত্রা করে সন্ধ্যায় দিনাজপুর শহরের সাধুরঘাটে পৌঁছালে কান্তজীউ বিগ্রহকে স্বাগত জানাবে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। পরে শোভাযাত্রার মাধ্যমে বিগ্রহটি রাজবাড়ী মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হবে।

আয়োজকরা জানান, শতাধিক ঘাট অতিক্রম করা এই যাত্রাপথে অগণিত ভক্তের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। রাজ পরিবারের দীর্ঘদিনের প্রথা অনুযায়ী প্রতিবছর জন্মাষ্টমীর দুই দিন আগে কান্তজীউ বিগ্রহ রাজবাড়ী মন্দিরে আনা হয়। সেখানে তিন মাস অবস্থানের পর রাসপূর্ণিমায় পুনরায় কান্তনগর মন্দিরে ফিরে যাবে বিগ্রহ।

হাজারো ভক্তের সমাগমকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের এই মিলনমেলা সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের অনন্য দৃষ্টান্ত বলে মনে করছেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা। প্রতি বছর কান্তজীউ বিগ্রহের এই নদীপথের যাত্রাকে ঘিরে দিনাজপুরজুড়ে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। মনোবাসনা পূরণ, পারিবারিক কল্যাণ এবং বিশ্বশান্তির প্রত্যাশায় হাজারো ভক্তের মিলনমেলায় পরিণত হয় এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন।

পড়ুন: কাশিমপুরে অনুমোদনহীন দুই চাইনিজ ব্যাটারি কারখানায় অভিযান

আর/

-বিজ্ঞাপন-
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন