জনসাধারণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া, নাগরিকদের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শোনা এবং তা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে নেত্রকোনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে সাপ্তাহিক গণশুনানি। তবে এবারের গণশুনানি কেবল নাগরিক সমস্যা সমাধানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এর পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় নেওয়া হয়েছে ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে নানা প্রজাতির গাছের চারা।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান।
সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, জমিজমা সংক্রান্ত কিংবা দাপ্তরিক নানা সমস্যা ও অভাব-অভিযোগ নিয়ে সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত হন। জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান অত্যন্ত ধৈর্য ও মনোযোগ সহকারে প্রতিটি সেবাপ্রত্যাশীর কথা শোনেন। অনেক ক্ষেত্রে তিনি তাৎক্ষণিকভাবেই সমস্যার সমাধান করে দেন এবং যেসব বিষয়ে তদন্ত বা সময় প্রয়োজন, সেসব বিষয়ে দ্রুত ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন। প্রশাসনের এমন জনবান্ধব ও দ্রুত পদক্ষেপে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ও সন্তোষ লক্ষ্য করা যায়।
এদিনের গণশুনানির সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও প্রশংসিত দিক ছিল সেবাপ্রত্যাশীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচি। পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং দেশব্যাপী সবুজায়ন নিশ্চিতকরণে সরকারের চলমান উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসন।
শুনানি শেষে আগত বয়োজ্যেষ্ঠ নারী-পুরুষসহ সকল সেবাপ্রত্যাশীর হাতে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং বৃক্ষরোপণে সাধারণ মানুষকে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করাই ছিল জেলা প্রশাসনের মহতী এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। চারা হাতে পেয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা মানুষগুলোর মুখে হাসির রেখা ফুটে ওঠে।
গণশুনানি ও চারা বিতরণ কর্মসূচিতে সার্বিক তত্ত্বাবধানে উপস্থিত ছিলেন, নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ওয়াহিদুজ্জামানসহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আধুনিক, সমস্যা-মুক্ত প্রশাসন গড়ার পাশাপাশি সবুজ, সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব নেত্রকোনা জেলা গড়ে তুলতে জেলা প্রশাসনের এমন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। শুধু দাপ্তরিক কাঠামোর মধ্যেই আটকে না থেকে, পরিবেশ ও প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে গৃহীত উদ্যোগ স্থানীয় সুধীমহলেও ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
পড়ুন: আসিফ মাহমুদসহ ৪ জনের দুর্নীতির সত্যতা পেয়েছে দুদক
আর/


