বিজ্ঞাপন

আদালতের স্থগিতাদেশের পরও ‘জনতার বাজার–১’ বন্ধ, ক্ষুব্ধ উদ্যোক্তা-ক্রেতারা

বিজ্ঞাপন

স্বল্পআয়ের মানুষের সাশ্রয়ী বাজার ও কৃষকের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত ‘জনতার বাজার–১’ এক বছরের মাথায় উচ্ছেদের মুখে পড়েছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, বাজারটি নিয়ে আদালতের স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও ঢাকা জেলা প্রশাসন বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উদ্যোক্তাদের অনুপস্থিতিতে বাজারের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দিয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন বাজারসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও কর্মীরা। একই সঙ্গে কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে অভ্যস্ত স্থানীয় স্বল্পআয়ের মানুষের মধ্যেও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।

রাজধানীর মোহাম্মাদপুরের ‘জনতার বাজার-০১’ আপাতত বন্ধ না করে পর্যবেক্ষণ ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে চালু রাখাসহ সাতটি দাবি করেছে উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্টরা।

বিকেলে জেলা প্রশাসকের নিকট এসব দাবি তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট কৃষক, উদ্যোক্তা, কর্মচারীরা। তারা বলেন, সাধারণ ভোক্তাদের ন্যায্যমূল্যে নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্য ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেওয়ার মহৎ উদ্দেশ্যে ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মোহাম্মদপুরে “জনতার বাজার-০১” প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে নানা জটিলাতায় জেলা প্রশাসক হঠাৎ বাজার বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

জনস্বার্থ, কৃষকের স্বার্থ, ভোক্তার স্বার্থ, কর্মসংস্থান এবং সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করে জনতার বাজার-০১, মোহাম্মদপুর বন্ধ করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে বাজারটি পরিচালনার সুযোগ প্রদান করার অনুরোধ জানান ভুক্তভোগীরা।

২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বাজারটি বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানের শিকার হয়েছে। জনতার বাজারের বিষয়টি নিয়ে উদ্যোক্তারা আদালতের শরনাপন্ন হলে আদালত উদ্যোক্তাদের পক্ষে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দেন৷ কিন্তু বিষয়টি জেলা প্রশাসন আমলে না নিয়ে আজ বেলা ১০ টায় উদ্যোক্তাদের অনুপস্থিতিতে তালা দিয়ে দেন।

তারা জেলা প্রশাসকের কাছে ৭ টি দাবী করেন।
১। জনতার বাজার-০১ আপাতত বন্ধ না করে পর্যবেক্ষণ ও সংশোধন মূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে চালু রাখার সুযোগ প্রদান করা;

২। বাজার পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নীতিগত সহায়তা প্রদান করে শর্ত, নির্দেশনা ও নীতিমালা রয়েছে, সেগুলো কঠোরভাবে প্রতিপালনের জন্য উদ্যোক্তাদের লিখিত অঙ্গীকার গ্রহণ করা;

৩। বাজারের ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা, পণ্যমান, মূল্য প্রদর্শন, কৃষকের সরাসরি অংশগ্রহণ এবং ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করতে একটি যৌথ মনিটরিং কমিটি গঠন করা;

৪। বাজারটিকে প্রকৃত অর্থে কৃষক ও ভোক্তাবান্ধব করার লক্ষ্যে “Farm to Consumer” পদ্ধতিতে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি কৃষিপণ্য সংগ্রহ ও বিপণনের ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা;

৫। বাজারের কোনো অনিয়ম বা ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা থাকলে তা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্টদের সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট সময় প্রদান করা;

৬। জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে বাজার কমিটি, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা আয়োজন করে বাজারটির ভবিষ্যৎ পরিচালনা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা;

৭। জনতার বাজারকে একটি মডেল কৃষক-ভোক্তা সংযোগ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা।

এসব বিষয় নিয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসক এডিসি ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. মুশফিকুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান জনতার বাজার-১ তাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হবার কারণে আমরা সকালে তালা লাগিয়েছি।

পড়ুন:রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জিএম সুবক্তগীণ হলেন অতিরিক্ত মহাপরিচালক

ইমি/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন