নিজ দলের নেতাকর্মীদের মাদক ব্যবসায়ীদের ও মাদকসেবীদের ধরে পুলিশে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা -১৯ আসনের এমপি ও বিএনপি নেতা ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু।
শুক্রবার বিকালে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাভার সরকারি কলেজ মাঠে দলটির পৌর কমিটি আয়োজিত আলোচনা সভায় শেষে সাংবাদিকদের আলাপকালে এ নির্দেশনা দেন তিনি।
তিনি বলেন,“যারা এই দলটিকে (বিএনপি) তৈরি করেছে, এই দলটিকে সংগঠিত করেছে, আজকে এই দল ক্ষমতায় হাইয়েস্ট সিট নিয়ে—আমরা তাদের অনুসারী হিসেবে এই এলাকায় আমি এমপি। তারা(বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ) উপর থেকে নির্দেশ দিচ্ছে, আমি সেই নির্দেশ তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিচ্ছি। এখন এইটা রক্ষা করতে হলে, দায়িত্ব পালন করতে হলে, পুলিশের ওপর ভরসা করলে হবে না। দলের নেতাকর্মীদের মাদক ব্যবসায়ীদের ধরে পুলিশের হাতে দিতে হবে। এইটা যখন আমরা না করব, এই মাদক বাংলাদেশ থেকে, সাভার থেকে, আশুলিয়া থেকে কোনোদিন নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।
বর্তমানের মাদকের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধয়ে এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, আজকে ঘরে ঘরে লক্ষ লক্ষ লোক মাদক সেবন করে, মাদক ব্যবসা করে। আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন, আমি বলব, দুই লক্ষ লোক মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, মাদক সেবন করে। এই ১০০, ২০০, ৩০০ পুলিশ অফিসার দিয়ে কন্ট্রোল করা যাবে? দলকে দায়িত্ব দিতে হবে এবং পুলিশকে দায়িত্ব ভাগ করে দিতে হবে। মাদকের জন্য পুলিশের আলাদা ইউনিট করতে হবে। বলবে যে, তোমাকে( পুলিশ কর্মকর্তা) এটা কন্ট্রোল না করলে তোমার বদলি হবে।এখন পুলিশের ২২টা কাজ, তার মধ্যে মাদক একটা। মাদকের কাজ হলো এক নম্বর কাজ। এটা যদি ওইভাবে দেখা না হয় রাষ্ট্রীয়ভাবে এবং পুলিশ যদি সেই দায়িত্বটা পালন না করে, কোনোদিন বাংলাদেশ থেকে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। আমি সেই কথাটা বলার চেষ্টা করেছি।
তিনি বলেন, জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা এনেছে। জনগণ আমাকে ভোটে নির্বাচিত করেছে। আমরা সবাইকে নিয়ে সাভারে মাদক নির্মূল করতে চাই। আমি আমার তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছি। তাদেরকে আমি পাশে চাই। এখন থেকে তারা যদি সেই ভূমিকা পালন করে, তাহলেই হয়তো মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।”
“আপনি মাদক নির্মূলে নিজেকে কতটুকু সফল মনে করছেন”—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটা হয়তো দৃশ্যমান বলার মতো কিছুই না। কিন্তু এখন এরা (মাদক ব্যবসায়ীরা) ভয়ে আছে। অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছে এবং আমাদের জিরো টলারেন্স আছে। আমি কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। তাদেরকে আমরা ধরার ব্যবস্থা করতেছি। পুলিশের ওপর চাপ আছে এবং আপনারা (গণমাধ্যমকর্মীরা) দেখবেন, দুই-এক মাস পরে দৃশ্যমান কিছু করতে পারব বলে আমি মনে করি।”
সাভার পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইব্রাহিম মোল্লার সভাপতিত্বে আলোচনা সভা পরিচালনা করেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান বদি।
এ সময় সাভার ও আশুলিয়া থানা বিএনপির অঙ্গ সংগঠন ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন : মদনে খাদ্য অধিদপ্তরের লোগোযুক্ত বস্তাসহ ৫ টন চাল জব্দ


