বিজ্ঞাপন

৯ মাসে উধাও ৭১ হাজার গাছের চারা

বিজ্ঞাপন

মেহেরপুর-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের দুপাশে রোপণ করা ৭১ হাজার ১২৫টি গাছের চারার অধিকাংশই মাত্র ৯ মাসের ব্যবধানে উধাও হয়ে গেছে। সড়কের সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সরকারি অর্থ ব্যয়ে এসব চারা রোপণ করা হলেও যথাযথ পরিচর্যা ও পানি দেওয়ার অভাবে অধিকাংশ চারা মারা গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয়ে নেওয়া উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জানা গেছে, মেহেরপুর-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালে। এ সময় সড়কের দুপাশ থেকে ব্রিটিশ আমলের ২ হাজার ৭৮৬টি গাছ কেটে ফেলা হয়। পুরোনো এসব গাছ কাটার পর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সড়কের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য নতুন করে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট প্রায় ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০ কিলোমিটার মহাসড়কের দুপাশে ৭১ হাজার ১২৫টি গাছের চারা রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি পায় রাজশাহীর বিসমিল্লাহ বর্ষণ এন্ড কোম্পানি। পরে কুষ্টিয়ার মিলন নামের এক ঠিকাদার কাজটি নেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, প্রতিটি গাছের চারা রোপণ এবং পরবর্তী ৯ মাস পরিচর্যার জন্য বরাদ্দ ছিল মাত্র ১৪ টাকা। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, চারা রোপণের পর নিয়মিত পানি দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে প্রচণ্ড গরম ও অনুকূল পরিবেশের অভাবে অধিকাংশ চারা শুকিয়ে মারা যায়।

সরেজমিনে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা গেছে, অনেক জায়গায় রোপণ করা চারার কোনো অস্তিত্বই নেই। কোথাও সামান্য কিছু চারা টিকে থাকলেও সেগুলোর অধিকাংশই পরিচর্যার অভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয়ে বিপুলসংখ্যক চারা রোপণের পরও প্রত্যাশিত সবুজায়ন দেখা যাচ্ছে না।

স্থানীয় পথচারীরা বলেন, গ্রীষ্মকালে চারা রোপণ করায় সেগুলো টিকিয়ে রাখা কঠিন ছিল। তবে নিয়মিত পানি দেওয়া ও পরিচর্যার ব্যবস্থা থাকলে অনেক চারা বেঁচে যেত। তাদের মতে, ভবিষ্যতে বর্ষাকালে চারা রোপণ এবং রোপণের পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, পুরোনো গাছ কাটার পর নতুন চারা রোপণ পরিবেশের জন্য ইতিবাচক উদ্যোগ। কিন্তু রোপণের পর সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করা না হলে সরকারি অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি পরিবেশেরও ক্ষতি হয়। তাই প্রকল্পের বাস্তবায়ন, পরিচর্যা এবং অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মেহেরপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

পড়ুন: নেপালে সুড়ঙ্গে আর কেউ বেঁচে নেই, উদ্ধারকাজ শেষ

আর/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন