পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে বদলি চালকের নামে একটি সংঘবদ্ধ সক্রিয় সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বন্দরে আসা পণ্যবাহী ট্রাকচালকদের জিম্মি করে সিন্ডিকেটের সদস্যরা হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন চালকেরা।
পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা এই বন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বলে দাবি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের। এতে রাজস্ব আয়ও কমে আসার শঙ্কা রয়েছে। বদলি চালকের নামে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট থেকে মুক্তি চান রপ্তানি পণ্যবাহী ট্রাকচালকেরা।
রপ্তানি পণ্যবাহী ট্রাকচালকদের অভিযোগ, কাগজপত্র ঠিক থাকলেও বাংলাবান্ধায় স্থানীয় চালকেরা তাদের ট্রাক আটকে দেন। এরপর বাধ্য করা হয় বদলি চালক নিতে। তাদের কথা না শুনে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ফুলবাড়ি চেকপোস্টে সিন্ডিকেটের সদস্যরা গাড়ি ফিরিয়ে দেন। এতে তাদের আরও বেশি হয়রানির শিকার হতে হয়। আবার বদলি চালক দেওয়ার পর কেউ কেউ গাড়ি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত করে নিয়ে আসেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়, দেশের একমাত্র চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা দিয়ে প্রতিদিন ৩০-৪০টি গাড়িতে ভুসি, ঝুট ও শিশু খাদ্য, আরএফএল, ওয়ালটন ও প্রাণ কোম্পানির মালামাল রপ্তানি হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রপ্তানি পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে পৌঁছালে সিন্ডিকেট চক্রটি গাড়ি আটকে বদলি চালক তুলে দেয় বলে অভিযোগ। এ জন্য ট্রাকপ্রতি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।
গাজীপুর থেকে আসা ট্রাকচালক ইকবাল হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, “ঢাকা থেকে ট্রাকে পণ্য নিয়ে বাংলাবান্ধা পর্যন্ত আসছি।এখানে এসে আমার ড্রাইভিং লাইসেন্সের কাগজের দাম নাই।বদলি চালক দেওয়ার জন্য আটকিয়ে দেয় স্থানীয় শওকত মেম্বার নামের এক ব্যক্তি।পরে তাদেরকে বদলি চালকের জন্য ১ হাজার ২০০ টাকা দিতে হয়।যদি রাত থাকতে হয় তাহলে আরো ৫০০ টাকা দিতে হবে।গাড়িতে আমি টাকা পাবো ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা,আমার আরো খরচ রয়েছে। সেখান থেকে বদলি চালক দিলে আমার কিছু থাকবেনা। এজন্য এই স্থলবন্দরে পন্য নিয়ে আসতে চায় না অনেকেই।”
যশোর থেকে আসা ট্রাকচালক রাহিদুল ইসলাম বলেন, “যতবড়ই গাড়ির ভারি কাগজ থাকুক কিন্তু গাড়ি নিয়ে পণ্য খালাস করতে যাইতে পারবেননা।আমার ভারী যানবাহন চালকের লাইসেন্স রয়েছে, যশোর থেকে আসছি। কিন্তু আর ১ কিলোমিটার যাইতে পারবোনা।বদলি চালক দেওয়ার নামে আমাদের পেটের ভাত কেরে নেওয়া হচ্ছে।”
ঢাকা থেকে আসা ট্রাকচালক নেওয়াজ উদ্দিন, শসসের আলী, মসলিম উদ্দিনসহ আরও অনেকে জানান, বাংলাবান্ধায় গাড়ি পৌঁছানোর পর বদলি চালকদের সিন্ডিকেট চক্রটি গাড়ি আটকে চালকের স্মার্ট কার্ড খোঁজে। তাদের দাবি, সরকার গত কয়েক বছর ধরে স্মার্ট কার্ড না দেওয়ায় তারা সেটি কোথা থেকে পাবেন। অনলাইন থেকে লাইসেন্স নিয়ে তারা ব্যবহার করেন।
অভিযুক্ত শওকত মেম্বার বলেন, “জোর করে কোন বদলি চালক দেওয়া হয়না। যারা নিতে চায় তাদেরকে দেওয়া।বাংলাবান্ধায় ২০০০ ও ২৬৪ শ্রমিক সংগঠনের শাখা রয়েছে।সবাই এক সাথে কাজ করছি।”
বাংলাবান্ধা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাদেকুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি শুনেছি কিছু ঝামেলা আছে, আমরা আগামীকালকে বসবো।”
পড়ুন: ১০ দিন পর নেপালে সুড়ঙ্গ থেকে চীনা নাগরিক জীবিত উদ্ধার
আর/


