পরিবারের অভাব-অনটন দূর করে স্বচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে তিন বছর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাড়ি জমিয়েছিলেন ২৫ বছরের জামশেদুল ইসলাম ডাকনাম আলাউদ্দিন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে প্রবাসে নির্মাণকাজ করতে গিয়ে সিঁড়ি থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘ ১৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) আলাউদ্দিনের মরদেহ চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর খরনদ্বীপে নিজ বাড়িতে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা।শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকা জুড়ে। যে ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় দিন গুনছিল পরিবার,তাকে ফিরতে হলো নিথর হয়ে।
নিহত আলাউদ্দিন চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী আব্দুস সালামের বাড়ির মো. নুরুল ইসলামের ছেলে। ছয় বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোটতাই মা-বাবা আদর করে নাম রেখেছেন আলাউদ্দিন,আলাউদ্দিন চেরাগের মতই উজ্জ্বল ফুটফুটে চেহারা তার।বাবা নুরুল ইসলাম দীর্ঘদিন প্রবাসজীবন শেষ করে এলে একমাত্র পুত্র সন্তান হিসেবে মা-বাবার মুখে হাসি ফুটাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যান ৩ বছর আগে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ আগস্ট আমিরাতের আল আইন এলাকায় নির্মাণকাজে যান জামশেদুল আলাউদ্দিন। সেখানে একটি ভবনে কাজ করার সময় সিঁড়ি থেকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।দীর্ঘ ১৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর গত ২৯ আগস্ট শনিবার বিকেলে চিকিৎসক জামশেদুল ওরফে আলাউদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেনেআর মাত্র কিছুদিন পরে এসে সংসার পাতার কথা ছিল আলাউদ্দিনের।
পরে সেদেশের প্রয়োজনীয় নিয়ম প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার তার মরদেহ দেশে আনা হয়। আসরের নামাজের পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
জামশেদুলের মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের কষ্ট দূর করে স্বচ্ছলতার যে স্বপ্ন নিয়ে হাজার মাইল দূরে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি, সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। প্রিয়জনের মুখে হাসি ফোটানোর বদলে নিথর দেহ হয়ে ফিরলেন পরিবারের ছোট ছেলে আলাউদ্দিন।


