জামায়াত-এনসিপি জোটের লংমার্চ কীসের ইঙ্গিত দিল?

0
4
বিজ্ঞাপন

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা নিজেদের প্রথম লংমার্চ কর্মসূচিতে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন জনসভা ও পথসভায় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে সরকার পতনের ‘এক দফার’ ইঙ্গিত দিয়েছেন।

তারা দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে ‘বাধ্য’ করবেন- এমন অঙ্গীকারের কথাও জানিয়েছেন এসব সমাবেশে।

এই কর্মসূচিতে ‘গণভোটের রায়’ বাস্তবায়নের দাবির পাশাপাশি চলমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটসহ জনজীবনের বিভিন্ন সংকটের জন্য তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের ব্যর্থতাকেই দায়ী করে এর বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

গত ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচনের সাথে হওয়া গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ-সার সংকট নিরসনসহ ছয় দফা দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এই লংমার্চের আয়োজন করেছিল বিরোধী এই জোট।

১১ দলীয় ঐক্য জোটের দাবিগুলো হলো—গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্য ঊর্ধ্বগতি রোধে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।

শফিকুর রহমান চট্টগ্রামের লালদিঘীর সমাবেশে শনিবার রাতে বলেছেন, এ আন্দোলন জনগণের দাবি বাস্তবায়নের আন্দোলন।

“জনগণের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা আদায় করে ছাড়বো। প্রস্তুত থাকুন। বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক আসবে। জনগণের যখন প্রয়োজন হবে তখনই ডাক আসবে। এ লড়াইয়ে জনগণের বিজয় হবে”।

আজকের লংমার্চ “সরকারকে সতর্ক করার জন্য” এমন দাবি করে তিনি বলেন, “বাকিগুলো এমন হবে না। আমাদের বাধ্য করেছেন রাজপথে আসতে। আমরা চেয়েছিলাম সংসদে ফয়সালা হবে”।

এর আগে সকালে কর্মসূচির শুরুতে ঢাকার এক সমাবেশে জোটের অন্যতম দল এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সরকার এই লংমার্চে বাধা দিলে ছয় দফা এক দফাতে পরিণত হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কুমিল্লায় বলেছেন, “আমরা সরকারকে বলবো- আপনারা দাবিগুলো মেনে নেন। যদি দাবি না মানেন, ছয় দফা একদফা রূপান্তর হবে, সেটা হবে সরকারের পদত্যাগ।”

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচনের দিন একই সাথে যে গণভোট হয়েছে তার রায় বাস্তবায়নের জন্য জামায়াত ও সমমনা দলগুলো শুরু থেকেই দাবি জানিয়ে আসছে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে এই জোট থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথও নিয়েছিলেন। কিন্তু বিদ্যমান সংবিধানে এ ধরনের বিধান না থাকায় সরকারি দল বিএনপির সংসদ সদস্যরা এ ধরনের শপথ নেয়নি।

জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির জন্য বিরোধী দল থেকে সদস্যদের নাম চাওয়া হলেও তারা তা দেয়নি।

তখন কমিটির গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান।

এরপর থেকে বিরোধী দল থেকে ধারাবাহিকভাবে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ই অগাস্ট ঢাকার মুক্তাঙ্গনে জোটের এক অবস্থান কর্মসূচি ঢাকাসহ চারটি বিভাগীয় শহরে ‘লং মার্চ’ ও মহাসমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেন জোটের নেতা শফিকুর রহমান।

তার ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৯শে সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুর, ১০ই অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা এবং ২৪শে অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেটে (রেলপথে) লং মার্চ শেষে ১৪ই নভেম্বর ঢাকায় জোটের মহাসমাবেশ করার কথা রয়েছে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

পড়ুন : জামায়াত ঘোষিত লংমার্চে সাধারণ মানুষের আগ্রহ নেই: রাশেদ খাঁন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.