ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিকল্পনাটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে এর প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ইরানকে মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং ইসরাইলকে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে উৎসাহ দেওয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা এবং বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও দুই ব্যক্তি অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠজনদের বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের জন্য তিনি ‘আরও বড় কিছু’ করতে চান।
পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ইরানের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের আরও শক্তভাবে একত্র করার কথা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন নিরাপত্তার গ্যারান্টার হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারে।
দ্বিতীয় ধাপে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্টি হওয়া বিভিন্ন সংঘাত ও উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়ন, ইসরাইল ও সিরিয়ার মধ্যে নিরাপত্তা চুক্তি এবং ইসরাইল-লেবাননের বিদ্যমান চুক্তি কার্যকর করার বিষয়গুলো থাকতে পারে।
তৃতীয়ত, ইসরাইল ও আরব দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ আরও সম্প্রসারণ এবং ইসরাইল ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তি করানো পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
রিয়াদ ও তেল আবিবের মধ্যে এমন কোনো চুক্তি হলে তা ট্রাম্পের জন্য বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। পাশাপাশি ইরান যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে তার প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবেও এটি দেখা হতে পারে।
এদিকে, ইসরাইলে আগামী ২৭ অক্টোবর নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এর পর নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রেও মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের আশা, ইসরাইলের নির্বাচনের পর যে সরকার ক্ষমতায় আসবে, তারা ওয়াশিংটনের নতুন পরিকল্পনায় সহযোগিতা করবে। তবে ইসরাইলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হওয়ার অপেক্ষায় থাকতে চায় না ট্রাম্প প্রশাসন।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, নির্বাচনের পরও ইসরাইলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হলে ট্রাম্প পরিকল্পনাটি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।
গত কয়েক সপ্তাহে ট্রাম্প তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে দুটি বৈঠকে এই পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। বৈঠকগুলোতে বিভিন্ন প্রস্তাব ও ধারণা তুলে ধরা হয়েছে।
তবে পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি।
ওই ব্যক্তি বলেন, পরিকল্পনাটি নিয়ে কাজ চলছে, কিন্তু এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি।
তার মতে, যুদ্ধের পর কীভাবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে একটি অভিন্ন কাঠামোর মধ্যে আনা যায়, সেটিই পরিকল্পনার অন্যতম মূল বিষয়। তবে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সব মিত্র এতে সম্মত হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
পড়ুন: ইরানের হামলায় সংঘাতরত এলাকা ছাড়ল মার্কিন রণতরী: আইআরজিসি
আর


