সরকারের কাছে জার্মানির কথা বলে চীনের নকল লাইট বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এডেক্স কর্পোরেশনের কর্ণধার ইঞ্জিনিয়ার আলী আজম। এ বিষয়ে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক চেয়ারম্যান বরাবার অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। স্বৈরাচার হাসিনার সময়ের বিদ্যুৎ খাতের সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী ও নকল প্রোডাক্ট সরবরহকারী এডেক্স কর্পোরেশনের কর্ণধার (চেয়ারম্যান) ইঞ্জিনিয়ার আলী আজমকে আইনের আনা ও তদন্তপূর্বক তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, এডেক্স কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আজম আলী ব্যক্তি জীবনে একজন স্বৈরাচারের দোসর ও হাসিনার সময়ের বিদ্যুৎ খাতের সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী। গোপালগঞ্জের সন্তান ও শেখ পরিবারের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে আওয়ামী লীগ আমলে বাগিয়ে নিয়েছেন বড় বড় টেন্ডার। নকল ও নিম্নমানের প্রোডাক্ট সরবরাহ করে হাতিয়ে নিয়েছেন শত শত কোটি টাকা। আওয়ামী ভোল পাল্টিয়ে বিএনপি সেজে বর্তমানেও বহাল তবিয়তে থেকে আবারও ফন্দি এঁটেছেন রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের।
অভিযোগপত্রে তার দুর্নীতির তিনটি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনা: এক, ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ৩৩টি ওয়ার্ডে সড়ক বাতি স্থাপনে ৪৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকার বৈদ্যুতিক মালামাল ক্রয়ের জন্য আহ্বান করা টেন্ডারে এডেক্স কর্পোরেশন লিমিটেডের কাগজে ভুল থাকা সত্ত্বেও তাদের কাজ প্রদান করা হয়। টেন্ডারের স্পেসিফিকেশনের মধ্যে লাইটের অরিজিন ইউরোপ, জার্মান ও হল্যান্ডের শর্ত থাকলেও এডেক্স কর্পোরেশন লিমিটেড চায়না ব্যান্ডের লাইট লেডভেন্স প্রদান করেন। এর মাধ্যমে বিপুল পরিমান রাষ্ট্রীয় অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।
ঘটনা: দুই, রাজধানীর বিস্তৃত এলাকাজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে নিয়োজিত ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানিতে (ডেসকো) ২০২২-২৩ অর্থবছরে এডেক্স করপোরেশনের মাধ্যমে ২৫০ কেভিএ ৬৯০টি ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফরমার ক্রয় করা হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় ২৬ কোটি টাকা। এখানেও জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির টেস্টিং অ্যান্ড রিপেয়ারিং ডিভিশনের প্রাপ্ত তথ্যে এখানে ২৫০ কেভি উল্লেখ করলেও ছিল ২০০ কেভির। তবে এমন জালিয়াতির আশ্রয় নিলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ঘটনা: তিন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এর উদ্দেশ্যে জাতীয় সংসদ ভবনে স্থাপিত ড্রাই টাইপ ট্রান্সফর্মারের মেয়াদ থাকার পরেও তা পরিবর্তন করা হয় এডেক্স কর্পোরেশনের মাধ্যমে। যার দরপত্র মূল্য ছিল প্রায় ৪৬ কোটি টাকা। টেকসই জিনিস থাকার পরেও, ২০৮২ সাল পর্যন্ত মেয়াদ থাকার পরও নতুন ড্রাই টাইপ ট্রান্সফরমার বসানোর কথা বলে পুরো বিল পরিশোধ করা হলেও অদ্যাবধি কাজের কাজ কোন কিছুই হয়নি।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, বর্তমানে এডেক্স করপোরেশন এর ইঞ্জিনিয়ার আলী আজম নেমেছে নতুন করে জালিয়াতিতে। এডিবি অর্থায়িত নেসকো প্রকল্পে এডেক্স কর্পোরেশন ট্রান্সফরমার সরবরাহ করবে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (নেসকো) একটি প্রকল্পে এসব ট্রান্সফরমার সরবরাহ করা হবে।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জালিয়াতি ও সংগঠিত দুর্নীতির মূল হোতা বা নিয়ন্ত্রক হিসেবে যাদের চেনা যায় তাদের মধ্যে অন্যতম এডেক্স কর্পোরেশনের কর্ণধার আলী আজম। তিনি যেসব প্রকল্পে হাত দিয়েছেন সবগুলো ডুবেছে। দুর্নীতি ও নকল পণ্য সরবরহকারী হিসেবেই তনি সর্বমহলে পরিচিত। তাই আওয়ামী আমলের দুর্নীতিবাজকে বিএনপি সরকারের সময়ে নতুন কোজ কাজ প্রদান থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো। সেই সঙ্গে তার বিগত দিনের সংগঠিত দুর্নীতি তদন্তপূর্বক তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
পড়ুন: ইউপি নির্বাচনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে, সেপ্টেম্বরে আসতে পারে তফসিল
আর/


