ঢাকা-কুমিল্লা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন যৌথ উদ্যোগ নাসা স্পিনার্স অ্যান্ড গার্মেন্টস লিমিটেডের নিয়ন্ত্রণ নিতে একটি বিদেশি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান প্রশাসনিক ও নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার ফাঁকফোকর কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এই বিতর্কের কেন্দ্রে আরও যে উদ্বেগজনক অভিযোগ রয়েছে, তা হচ্ছে- ইপিজেডে বিনিয়োগ সুরক্ষা ও শিল্প পরিচালনা সহজ করার দায়িত্বে থাকা বেপজা বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানটিকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিলে আবারও প্রতিষ্ঠানটি ঘুরে দাঁড়াবে। নাসা স্পিনার্স একটি ক্যাটাগরি-বি যৌথ উদ্যোগ, যেখানে নাসা গ্রুপের সঙ্গে অংশীদার রয়েছে একটি বৃহৎ চীনা টেক্সটাইল মিল। প্রতিষ্ঠানটির আনুমানিক বার্ষিক রাজস্ব প্রায় ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, সরাসরি কর্মসংস্থান প্রায় ১,২০০ জন এবং আইএফআইসি ব্যাংকের প্রায় ২৫০ কোটি টাকার ঋণ-এক্সপোজার রয়েছে। নাসা স্পিনার্স পুনরায় চালু হওয়ার সক্ষমতা রাখলে জাতীয় স্বার্থ হওয়া উচিত কারখানাটি চালু করা।
একটি সচল রপ্তানিমুখী কারখানা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে এবং ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে পারে। বিপরীতে, একটি ডিস্ট্রেসড টেকওভার থেকে লাভবান হবে কে? আইএফআইসি ব্যাংকের প্রায় ২৫০ কোটি টাকার ঋণ-এক্সপোজার রয়েছে বলে জানা গেছে। এমন অবস্থায় তৃতীয় কোনো প্রতিষ্ঠান যদি শিল্প প্রকল্পটির বাণিজ্যিক সুবিধা পায়, অথচ মূল শেয়ারহোল্ডারদের ওপর বিপুল ঋণের দায় থেকে যায়, তাহলে সেটি গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দেবে।
একই সঙ্গে প্রায় ১,২০০ শ্রমিক ও তাদের পরিবারের জীবিকা এই কারখানার সঙ্গে জড়িত। এটি শুধু নাসার বিষয় নয়। বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীদের যৌথ উদ্যোগ ও শিল্প স্থাপনে আহ্বান জানায়। কিন্তু একটি বিদ্যমান বিদেশি অংশীদারিত্বের প্রকল্পকে যদি নিয়ন্ত্রক পথ ব্যবহার করে অন্য কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান দখলের সুযোগ পায় – এমন ধারণাও তৈরি হয় তাহলে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ সম্পর্কে কী বার্তা যাবে? বেপজাকে স্পষ্ট করতে হবে, নাসা স্পিনার্সের কারখানা, সম্পদ, প্লট বা কার্যক্রম নিয়ে অন্য কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা বা সমঝোতা হয়েছে কি না। এসব প্রশ্নের স্বচ্ছ উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের হস্তান্তর, পুনর্বণ্টন বা তৃতীয় পক্ষের নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ স্থগিত রাখা উচিত। বিদেশি প্রতিষ্ঠানটি যদি সত্যিই নাসা স্পিনার্সে বিনিয়োগ বা অধিগ্রহণ করতে চায়, তাহলে পথ একটাই: সামনের দরজা দিয়ে আসুন। মালিকদের সঙ্গে স্বচ্ছভাবে আলোচনা করুন, চীনা অংশীদারের অধিকার সম্মান করুন, আইএফআইসি ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষা করুন এবং একটি স্বচ্ছ বাণিজ্যিক প্রস্তাব দিন। এর বাইরে যেকোনো পথ বিনিয়োগের চেয়ে বরং একটি মূল্যবান বাংলাদেশি শিল্পসম্পদ ‘ব্যাকডোরে’ দখলের প্রচেষ্টা হিসেবেই প্রশ্নের মুখে পড়বে।
পড়ুন : সাভারে পুলিশ সদস্য হত্যার মূলহোতা গ্রেপ্তার, অপরাধীরা শনাক্ত
সা/


