সমকালীন অভিনেত্রীর মতো ঋতাভরী চক্রবর্তীর ব্যস্ততা খুব একটা চোখে পড়ে না। তারপরও টলিউড থেকে বলিউডে যেখানেই কাজ করেছেন, নির্মাতাদের আস্থার প্রতিদিন দিয়েছেন। একইভাবে দর্শক প্রশংসা কুড়িয়েছেন অনিন্দ্য অভিনয় দিয়ে। যে কারণে সিনেমা বা সিরিজের গল্প ও চরিত্র নির্বাচন থেকে শুরু করে ঋতাভরী প্রতিটি কাজে তাঁর চিন্তাভাবনাকে মূল্যায়ন করে সিনেমাপ্রেমীরা।
এবার শিক্ষক দিবসে ঋতাভরী যা করলেন, তা নিয়ে রীতিমতো বিস্মিত নেটিজেনরা। কারণ, এদিন অভিনেত্রী যা পোস্ট করেছেন, তার পুরো ফ্রেমজুড়ে ছিল কেবলই বাঁশের ছবি। আর সেই ছবির ক্যাপশনে লেখা ‘আমার জীবনের সব থেকে ধারাবাহিক শিক্ষককে জানাই শিক্ষক দিবসের শুভেচ্ছা।’
শিক্ষক দিবসে ঋতাভরী এই ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করতে পারেন, তা স্বপ্নেও ভাবেনি কেউ। যার দারুণ, সামাজিক মাধ্যমে কটাক্ষের তীর ছোড়া শুরু করেছেন নেট দুনিয়ার বাসিন্দরা।
সংবাদ প্রতিদিন, এই সময় অনলাইন থেকে শুরু করে ভারতের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা গেছে, প্রতিবছর ৫ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে উদযাপিত হয় শিক্ষক দিবস। এ বছরও ভারতরত্ন ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণের জন্মজয়ন্তীকে স্মরণ করে সবাই নিজের স্কুল-কলেজের প্রিয় শিক্ষক-শিক্ষিকার প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এর মাঝেই হঠাৎ সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যঙ্গাত্মক এক পোস্ট করে নজর কেড়েছেন টলিউড ও বলিউড অভিনেত্রী ঋতাভরী চক্রবর্তী।
পোস্ট ঋতাভরী তাঁর শিক্ষা জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতাকে বাঁশের সঙ্গে তুলনা করেছেন। অভিনেত্রীর এমন পোস্টের মন্তব্য বাক্সে রীতিমতো ঝড় বয়ে গেছে। হেসে খুন অনুরাগীরা। এমনকী ঋতাভরী চক্রবর্তীর পোস্ট দেখে স্থির থাকতে পারেননি অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীও। কমেন্টে হেসে গড়িয়েছেন তিনিও। কেউ বা নায়িকার কৌতুকবোধের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তবে আপাতদৃষ্টিতে এই পোস্ট মজার বলে মনে হলেও নেট ভুবনের একাংশ কিন্তু অভিনেত্রীর আক্ষেপই দেখছেন! তাদের কৌতূহল, সব ঠিক আছে তো?
এসব প্রশ্নের নিরিখেই ঋতাভরীর পোস্ট আতশ কাচের নিচে রেখেছেন নেটিজেনরা। উদ্ধারের চেষ্টা করছেন, অভিনেত্রী তাঁর পোস্টের মাধ্যমে কী বোঝাতে চাইছেন।
এদিকে পূর্ব ভারতের অভিনেত্রী হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় সবচেয়ে বেশি অনুসরণকারীর মালকিন বনে যাওয়া ঋতাভরীর হাতের বড় কোনো প্রজেক্ট নেই। ‘পরী’, ‘নেকেড’সহ আরও বেশ কিছু সিনেমা সিরিজে অভিনয়ে করে দর্শক প্রশংসা কুড়ালেও ব্যস্ততা বাড়েনি এতটুকু। সর্বশেষ পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের বিপরীতে ‘ছদ্মবেশী’ নামে থ্রিলার ওয়েব সিরিজে দেখা গেছে তাঁকে।
এরপর থেকে তিনি কেবলই আলোচনায় ছিলেন সামাজিক মাধ্যমের পোস্টগুলো নিয়ে। যেখানে দেশ ও সমাজের নানা অসংগতি নিয়ে অকপটে নিজ মন্তব্য তুলে ধরেছেন ঋতাভরী। যার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন, অনৈতিক কোনো বিষয়ের সঙ্গে কোনোভাবেই তিনি আপস করতে চান না। তবে আগের পোস্টগুলো নিয়ে কেউ সোরগোল না তুললেও শিক্ষক দিবসের ঘটনাটি চমকে দিয়েছে তাঁর অনুরাগী ও নেটিজেনদের।
পড়ুন:মৃত্যুর ৩০ বছর পরেও নায়ক সালমান শাহকে ঘিরে আগ্রহ ও কৌতুহল কেন?
ইমি/


